সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি শাহে আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগের পর আদালতে মামলা করেছেন বানারীপাড়া উপজেলার পশ্চিম তেতলা গ্রামের কৃষক রতন ঘরামী। 

বৃহস্পতিবার বরিশালের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে ইউপি সদস্য ইব্রাহিম বেপারী, আল-আমিন, তুহিন গাজী ও ইলিয়াস খানকে। তাদের মধ্যে আল-আমিন এমপি শাহে আলমের পারিবারিক কর্মচারী। অন্যরা তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ করা হয়েছে, বরিশাল-২ (বানারীপড়া-উজিরপুর) আসনের এমপি শাহে আলম ১৫ দিন আগে রতন ঘরামীকে তার বাসায় ডেকে নেন। খামার করার জন্য রতনকে ১৫ কাঠা জমি লিখে দেওয়ার জন্য বলেন। রতন কোনো জবাব না দিয়ে ওই বাসা থেকে চলে যান। গত ২৪ জানুয়ারি রাত ১১টায় আল-আমিনসহ চারজন রতনের ঘরে ঢুকে ১৫ কাঠা জমি এমপির নামে লিখে দিতে বলেন এবং নানা ধরনের হুমকি দেন। রতনের আত্মীয়স্বজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে রাত ২টায় পুলিশ গিয়ে রতনকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ তুহিন গাজী ও ইলিয়াস খানকে আটক করলেও পরদিন সকালে ছেড়ে দেয়। ছয় মাস ধরে রতনকে এ নিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদ সম্মেলনে পশ্চিম তেতলা গ্রামের সুমন রায় অভিযোগ করেছিলেন, ছয় মাস ধরে শাহে আলম গ্রামের ১২টি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে শাহে আলম সমকালকে বলেছেন, বানারীপাড়ার আওয়ামী লীগের কিছু নেতা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তাদের ইন্ধনে এসব হচ্ছে।

বানারীপাড়ায় ৫ সংখ্যালঘু সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন

স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহে আলমের বিরুদ্ধে বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নের পশ্চিম তেতলা গ্রামের ১২ সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৫ সংগঠন। 

বৃহস্পতিবার ওই সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ অভিযোগের সত্যতা জানতে পশ্চিম তেতলা গ্রাম পরিদর্শন শেষে বিকালে বানারীপাাড়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক গৌতম সমাদ্দার।

সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, পশ্চিম তেতলা গ্রামে মাত্র ৩টি সংখ্যালঘু পরিবারের অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়। যারমধ্যে রতন ঘরামি স্বেচ্ছায় তার জমি সাংসদের কাছে বিক্রি করতে চান। এজন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহিম বেপারীর কাছে রতন ঘরামি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জমি বিক্রি নিয়ে রতন ঘরামির সঙ্গে প্রতিবেশী সুমন রায়ের মতবিরোধ হলে রতন ঘরামি তার জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। 

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে সাংসদ শাহে আলম কর্তৃক সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি ও জমি দখলচেষ্টার অভিযোগে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং এগ্রোফার্ম করার জন্য জমি ক্রয় করতে চাওয়া হয়েছে। বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে রতন ঘরামি সাংসদ শাহে আলমের বিরুদ্ধে বসতবাড়ি ও জমি দখলচেষ্টার যে অভিযোগ করেছেন তা অসত্য।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্যপরিষদের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক দেব কুমার সরকার, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুমন রায়, জেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের সহ সভাপতি সুমন দেবনাথ, যুব ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক রিপন বনিক, পৌর পূজা পরিষদের সাধারন সম্পাদক প্রসেনজিৎ বরাল, উপজেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি হৃদয় সাহা প্রমুখ।