সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রবাসী এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদে তার স্বজনরা হাসপাতালে বিক্ষোভও করেছেন। 

বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃত আব্দুল আহাদের বাড়ি শহরতলির আখালিয়া নতুন বাজারের মোহাম্মদিয়া আবাসিক এলাকায়।

আহাদের শ্যালক হেলাল উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালটিতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে ভালোই ছিলেন তিনি। পরে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দিলে তারা ওষুধ নিয়ে যান। সেখান থেকে একটি ইনজেকশন পুশ করার সঙ্গে সঙ্গে নাক-মুখে রক্তক্ষরণ হয়ে আহাদের মৃত্যু হয়।

আরেক স্বজন বাবুল আহমদ বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে কয়েক ঘণ্টায়ও তারা সদুত্তোর দেননি। কোনো চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন তার নামও জানানো হয়নি। আমরা বলেছি, ডাক্তারের নামটা বলেন, আমরা জানতে চাই কেন এমনটা ঘটল? কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃৃপক্ষ বারবার বলছে, 'সরি, সরি, ভুল হয়ে গেছে'। পরবর্তীতে আমরা প্রশাসন নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসলে তারা আর দুঃখ প্রকাশ করেননি, উল্টো টালবাহানা করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এদিকে আহাদের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করেন। পরে মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করেন তারা। খবর পেয়ে সেখানে যান ১৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া শাওন। তিনি জানান, ওই হাসপাতালে গিয়ে প্রায়শ মানুষ ভোগান্তির শিকার হন। চিকিৎসকের কাছে ভালো হওয়ার জন্য রোগী নিয়ে গিয়ে লাশ নিয়ে ফিরতে হয়, এটি দুর্ভাগ্যজনক।

এ বিষয়ে অবশ্য উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দিতে চায়নি। 

তবে সিকিউরিটি ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, আহাদ কার্ডিয়াকের রোগী ছিলেন। ডাক্তাররা বারবার বলেছেন রোগীর অবস্থা খুব খারাপ। এরপর প্রেসক্রিপশন দেখে রোগীর স্বজনরা ওষুধ ও ইনজেকশন নিয়ে আসেন। ইনজেকশন দেওয়া হয়, সেটিও তারা দেখেছেন। যদি ডাক্তারদের দোষ হয় তাহলে কর্তৃপক্ষ আছে, সেটা তদন্তসাপেক্ষে বের হবে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি আলী মাহমুদ বলেন, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর খবর শুনে পুলিশ হাসপাতালে যায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।