ভূমিষ্ঠের সময় নবজাতকের হাতের হাড়ের জোড়া ভেঙে ফেলার ঘটনায় বন্ধ করে দেওয়া হয় ফরিদপুরের আরামবাগ হাসপাতাল। গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে অভিযান চালিয়ে বেসরকারি হাসপাতালটি বন্ধ করে দেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন; কিন্তু বিকেল থেকেই সেটি আবার চালু হয়।

গত ১৩ ডিসেম্বর ভূমিষ্ঠের সময় ওই নবজাতকের হাতের হাড়ের জোড়া ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৮ জানুয়ারি নবজাতকের বাবা আরিফুল আলম ওরফে সজল জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, ওই হাসপাতালটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট। এ ধরনের হাসপাতাল পরিচালনার জন্য তিনজন চিকিৎসক ও ছয়জন স্টাফ নার্স নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু ১৯ জানুয়ারি অভিযানকালে মাত্র একটি চিকিৎসক ও তিনজন স্টাফ নার্সকে কর্মরত দেখা যায়। প্রচলিত নিয়ম মেনে সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে সিভিল সার্জন জানান।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই দিন বিকেল থেকেই ফের হাসপাতালটি চালু করা হয়। এরপর ২১ জানুয়ারি পুলিশের একটি দল গিয়ে হাসপাতালটির কার্যক্রম ফের বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ২২ জানুয়ারি থেকে আবারও হাসপাতালটি চালু করে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালটি চালু করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আরামবাগ হাসপাতালের চেয়ারম্যান আবদুত তাওয়াব বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব লোকমান হোসেন তার পরিচিত। লোকমান হোসেনই সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেন। আবদুত তাওয়াব দাবি করে বলেন, তবে সহকারী সচিবের কথায় আমরা হাসপাতালটি চালু করিনি। সিভিল সার্জন আমাদের যে শর্ত দিয়েছিলেন তা পূরণ করে তার মৌখিক নির্দেশে হাসপাতালটি ফের চালু করেছি।

সিভিল সার্জন ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, সচিব পরিচয়ে তার কাছে ফোন করা হলেও লিখিত কোনো নির্দেশ তিনি পাননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হাসপাতাল চালু করার জন্য কোনো মৌখিক নির্দেশও তিনি দেননি। তাহলে হাসপাতালটি কীভাবে চালু হলো- প্রশ্ন করা হলে সিভিল সার্জন বলেন, এ ব্যাপারে তার কিছু বলার নেই।

এদিকে যে দুটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব পরিচয় দিয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, সে দুটি নম্বরে ফোন করে কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নবজাতকের হাতের হাড়ের জোড়া ভেঙে ফেলার ঘটনায় আরামবাগ হাসপাতালের মালিক ও চিকিৎসকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ২২ জানুয়ারি নবজাতকের বাবা আরিফুল আলম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।