সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সুন্দরবন এলাকার চিহ্নিত হরিণ শিকারি চক্রের তিন সদস্যসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার ছোটভেটখালী সুন্দরবন বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করেন বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কৈখালী স্টেশনের কর্মীরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে হরিণের মাংস এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় সহকারী স্টেশন অফিসার মো. শাহাদাৎ হোসেন শিকার নিষিদ্ধ বণ্যপ্রাণী আইনে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

আটক চারজন হলো- শ্যামনগর উপজেলার মীরগাং গ্রামের আব্দুল জব্বার গাজীর ছেলে ইউনুস আলী, হরিনগর গ্রামের আফতাব সানার ছেলে আব্দুল মাজেদ, যতীন্দ্রনগর গ্রামের কওছার গাজীর ছেলে ইদ্রিস আলী ও মৃত বিনয়কৃষ্ণ মণ্ডলের ছেলে পল্লি চিকিৎসক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল।

বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ইউনুস ও তার দুই সঙ্গী বুধবার সুন্দরবনে ঢুকে হরিণ শিকার করে। শিকারের পর হরিণ জবাই শেষে মাংস নিয়ে লোকালয়ে ফিরে আসে। রাত ৯টার দিকে শিকারি চক্রের ওই তিন সদস্য আগে থেকে অর্ডার নেওয়া গন্তব্যে ওই মাংস পৌঁছে দেওয়ার জন্য রওনা হয়ে সুন্দরবন বাজার এলাকায় বনকর্মীদের সামনে পড়ে। এ সময় টহলে থাকা বন বিভাগের সদস্যরা তাদের বহনকারী মোটরসাইকেল দাঁড় করালে শিকারি চক্রের সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিন শিকারিসহ মোটরসাইকেল চালক পল্লি চিকিৎসক রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে মীরগাং টহল ফাঁড়ির ওসি শাহাদাৎ হোসেন জানান, আটকদের বিরুদ্ধে মামলার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শিকারি চক্রের কাছ থেকে জব্দ করা মাংস কেরোসিন দিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং মোটরসাইকেলটি শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।