কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার কমলাপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে পারভীন খাতুন (৪০) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত পারভীন ওই গ্রামের রইচ মণ্ডলের স্ত্রী। দুই সন্তান রয়েছে এই দম্পতির।

এ ঘটনায় পারভীনের ভাই হাসনু বাদী হয়ে দু'জনের নাম উল্লেখ করে খোকসা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় নিহতের ভাশুর রফিকুলকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পারভীনের স্বামী রইচের দাবি, মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করে প্রকৃত খুনিকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রইচ বলেন, তার স্ত্রী পারভীনের সঙ্গে স্থানীয় টিউবয়েল মিস্ত্রি বিল্লাল হোসেনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানে। দুই-তিন মাস আগে পারভীন গ্রামের সমিতি থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ তুলে বিল্লালকে দিয়েছিল। এই ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে পারভীনকে বিল্লাল খুন করে বলে দাবি রইচের।

রইচের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান রইচ। এরপর ওই বাড়িতে আসে বিল্লাল।

পারভীনের স্কুলপড়ূয়া ছেলে রহিম জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তাদের বাড়িতে ছিল বিল্লাল। প্রথমে পারভীনের সঙ্গে বিল্লালের কথা কাটাকাটি হয়। পরে পারভীনের ঘরে যায় বিল্লাল। এ সময় রহিমকে বাড়ির পাশের দোকানে পান কিনতে পাঠায় সে। কিছু সময় পর রহিম ফিরলে বিল্লাল তাকে জানায়, তার মা ঘুমাচ্ছে। তাকে যেন ডাকা না হয়। এ কথা বলে ঘরের দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে যায় বিল্লাল। এরপর রহিম সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে মাকে না পেয়ে ডাকাডাকি করে। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের দরজা খুলে মায়ের মৃতদেহ দেখতে পায়। শিশুটি জানায়, তার মায়ের গলায় মোবাইল ফোনের চার্জারের তার দিয়ে পেঁচানোর দাগ ছিল।

নিহতের ভাই হাসনু বলেন, অনৈতিক সম্পর্কের কারণে তার বোন খুন হয়েছেন। তবে এই হত্যায় বিল্লালকে সহায়তা করেছে পারভীনের ভাশুর রফিকসহ অন্যরা।

খোকসা থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, পারভীন হত্যায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। প্রধান আসামি রফিককে পুলিশ আটক করেছে। তদন্তে খুনের রহস্য বেরিয়ে আসবে।