করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, ৯১ বছর বয়সী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের হৃদযন্ত্রে সমস্যা হচ্ছে, তার করোনাভাইরাস সংক্রমণও ধরা পড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র দ্য টেলিগ্রাফকে জানায়, তার উভয় ফুসফুস সংক্রমিত হয়েছে। তিনি বুধবার বাথরুমে পড়ে গিয়েছিলেন। তার গায়ে জ্বরও ছিল। উডবার্ন ব্লকে তার চিকিৎসা চলছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা মুখোপাধ্যায়ও তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান।

এর একদিন আগেই ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মশ্রী খেতাব প্রত্যাখ্যান করে আলোচনায় এসেছিলেন এই সংগীতশিল্পী।

>> পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, যার কণ্ঠ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংগীতপ্রেমীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দেওয়া 'বঙ্গ বিভূষণ' পুরস্কারও।

ভারতের বাংলা চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় অনেক গান সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের, যেগুলোতে কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনকে ঠোঁট মেলাতে দেখেছেন দর্শক।

পর্দায় উত্তম-সুচিত্রা জুটির অনেক রোমান্টিক গানের নেপথ্যে ছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। তার মধ্যে রয়েছে ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’, ‘এই মধুরাত’, ‘গানে মোর কি ইন্দ্রধনু’, ‘কে তুমি আমারে ডাক’, ‘মায়াবতী মেঘে এল যে তন্দ্রা’ এর মতো গান।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উদ্বাস্তুদের জন্য অর্থ সংগ্রহে যোগ দিয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।

বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি উপলক্ষে তিনি গেয়েছিলেন ‘বঙ্গবন্ধু তুমি ফিরে এলে’ গানটি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় পল্টন ময়দানে একটি উন্মুক্ত কনসার্টে গাইতে এসেছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়।