নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় রপ্তানিমুখী একটি তৈরি পোশাক কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের মদনপুরে জাহিন নিটওয়্যার লিমিটেডে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

তবে শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানটিতে শুধু ২০ জন নিরাপত্তা রক্ষী নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। তারা দ্রুত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

অগ্নিকাণ্ডে কয়েকশ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে মালিকপক্ষ। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের যারা আশপাশে বসবাস করেন, তারাও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

খবর পেয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ডেমরা, সোনারগাঁও ও বন্দর থেকে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ১৩টি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বন্দরের মদনপুর অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট। প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এক পাশে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে অপর অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জাহিন নিটওয়্যারের মালিক এম জামাল উদ্দিন বলেন, শুক্রবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানের নিচতলায় থাকা ডাইং সেকশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছ থেকে আমি জানতে পেরেছি। খবর পেয়ে দ্রুত প্রতিষ্ঠানে আসি আমি। তবে আগুনের সূত্রপাত কী থেকে, সেটি সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

জামাল উদ্দিন আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে রপ্তানির জন্য তৈরি করে রাখা প্রচুর পোশাক মজুদ ছিল। সেগুলো আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে থাকা যন্ত্রাংশও পুড়ে গেছে। বলতে গেলে একটি প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এই আগুনে।

নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির তিনটি ভবন রয়েছে। এর দুটি তিন তলা এবং একটি দোতলা। আগুন প্রতিটি ভবনেই ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিটি ভবনে থাকা যন্ত্রাংশের পাশাপাশি তৈরি করে রাখা পোশাক পুড়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন বলেও জানান তারা।

ফায়ার সার্ভিস নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, আগুনের সূত্রপাত তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। ক্ষতির পরিমাণও তদন্তেই উঠে আসবে।

ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দিনু মনি শর্মা শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও এটি আর বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তারা কাজ করছেন।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল কিছু সময় বন্ধ ছিল। তবে পুলিশ সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল সচল রাখার কাজ করছে।