অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, পাশাপাশি আড্ডা আর খুনসুটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিএফডিসি শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলেছে আলোচিত এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

২১ সদস্যের কমিটির এই নির্বাচনে দুটি প্যানেল এবং দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৪৪ জন চলচ্চিত্র শিল্পী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। গতবারের বিজয়ী সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান এবারও একসঙ্গে প্যানেল দিয়েছেন। তাদের বিপরীতে নতুন প্যানেলে এবার লড়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও নিপুণ।

এবারের চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন পীরজাদা শহীদুল হারুন। ২০২২-২০২৪ মেয়াদি এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪২৮ জন।

এদিন মিশা সওদাগরকে জিজ্ঞেস করা হয়, একই লোকের কাছে একসঙ্গে যে দুইপক্ষ ভোট চাচ্ছে, ব্যাপারটা কেমন লাগছে? তিনি জানান, এটা ভোটারের মূল্যায়ন। ভোটের দিন ভোটারের সম্মান। একই কথা বললেন ইলিয়াস কাঞ্চনও। ইলিয়াস কাঞ্চন এবং মিশা উভয়কেই মনে হয়েছে উৎফুল্ল। কাঞ্চন বলেন, সবকিছু উৎসবের মতো মনে হচ্ছে। ইলিয়াস এবং মিশা দুই প্যানেলই জয়ের ব্যাপারে সর্বোচ্চ আশাবাদী।

কিন্তু এফডিসির গেটের বাইরে পরিচালক ও প্রযোজকদের দাঁড় করিয়ে ভোটগ্রহণ ভালো লাগেনি একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা ইলিয়াস কঞ্চনের।

অপরদিকে ভোটগ্রহণের এই দিনেও জায়েদ খানের বিরুদ্ধে ভোটারদের টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ করেছেন সাধারণ সম্পাদকপ্রার্থী নিপুন। অন্যদিকে নিপুনের এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জায়েদ খান বলেন, এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ। শিল্পীদের টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। তাদের ভালোবাসা দিয়ে কিনেছি। বিগত চার বছর ধরে কাজের মাধ্যমে তাদের ভালোবাসা পেয়ে এসেছি।

ভোটগ্রহণ শেষে দুই পক্ষই বলছে, ভোটাররা যাকে ভালো মনে করেছে তাকেই ভোট দিয়েছে। ফলাফল যাই হোক, শিল্পী সমিতির উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন সবাই মিলেমিশেই। শিল্পী সমিতির মূল লক্ষ্য এফডিসি, চলচ্চিত্র ও শিল্পীদের উন্নয়ন বলেও জানান তারা।

শুক্রবার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন সব শিল্পীরা। এবার ভোটে বিগত বছরগুলোর ন্যায় মানুষের গাদাগাদি ছিলো না। এফডিসিতে প্রবেশ করতে পারেনি সিনেমা-সংশ্লিষ্ট ১৭টি সংগঠনের কোনো সদস্য। এর মধ্য প্রযোজক ও পরিচালক সমিতি উল্লেখযোগ্য। তাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করলেও শিল্পীদের মধ্যে পরিচালক ও প্রযোজকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে চিত্রনায়ক আলমগীর ভোট দিতে এসে বলেন, ‘পরিচালক ও প্রযোজকদের কেন প্রবেশে বাধা থাকবে বুঝলাম না। এটা আমার কাছে খুবই খারাপ লেগেছে।’

ভোটের পরিবেশ ও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলমগীর বলেন, ‘আমি পরিবর্তনের পক্ষে। চাই নতুন নেতৃত্বে আসুক। একটা সময় আমরাও শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে ছিলাম। নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। তবে নতুন নেতৃত্বে যারাই আসুক তাদের ওয়েলকাম।’