মাছ, পাখি ও হাঁস-মুরগির বিকল্প খাদ্য উৎপাদনে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলার যুবক মো. খোরশেদ আলম। তিন মাস আগে ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই নামে বিদেশি এই পোকার খামার শুরু করেন তিনি। ওই পোকা বর্তমানে মাছ, মুরগি ও পাখির খাবার হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।

খোরশেদ আলম উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কানু মেম্বার বাড়ির মৃত শাহ আলমের ছেলে। তিনি জানান, রংপুর থেকে সাড়ে ১০ হাজার টাকায় তিন কেজি ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। নিজের একতলা বাড়ির ছাদে পরিত্যক্ত খামারে গড়ে তোলেন পোকার খামার।

খোরশেদ আলম আরও জানান, মাত্র তিন মাসে লার্ভা, মাতৃপোকা ও জৈব সারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার কেজি। ইউটিউব দেখে তিনি এই ব্যতিক্রম খামার গড়ার স্বপ্ন বুনেন। ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই বা প্যারেট পোকায় রয়েছে ৪০ ভাগ প্রোটিন ও ২০ ভাগ ফ্যাট। একটি স্ত্রী পোকা প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৬০০টি ডিম দেয়। ডিম থেকে লার্ভা জন্ম নেওয়ার পর ২১ দিনে পোকা পরিপূর্ণ হলে তা খাবার হিসেবে ব্যবহূত হয়। গত তিন মাসে পোকা বিক্রি করে তিনি ৪৫ হাজার টাকা আয় করেছেন।

ময়লা-আবর্জনা, তরকারির অবশিষ্টাংশ, মুরগির বিষ্ঠা ও খৈলের সংমিশ্রণে দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্যে তৈরি হয় এই পোকা। প্রত্যেক ফ্লাই ৯০০ থেকে এক হাজার পিউপা দিয়ে মারা যায়। এসব পিউপা একটি পাত্রে নিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত খাবারে রাখা হয়। ১৪ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে এসব পিউপা থেকে জন্ম নেয় প্যারোট পোকা। অল্প খরচে এই পোকা উৎপাদন করে হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এতে খামারিদের বেশি দামে বাজার থেকে ফিড কিনতে হবে না। তারা নিজেরাই পোকা উৎপাদন করতে পারবেন। 'ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই' থেকে প্যারোট পোকা উৎপাদন বৃহৎ আকার ধারণ করলে এটি কর্মসংস্থান তৈরি করবে, অন্যদিকে হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য চাহিদাও মেটবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহাজালাল মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, চট্টগ্রামে খোরশেদ এটি প্রথম করছেন। তিনি সম্পূর্ণ সফল হলে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে।

বিষয় : হাঁস-মুরগির খাদ্য ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই পাখির খাবার

মন্তব্য করুন