নরসিংদীর হাজীপুরে রেঞ্জ দিয়ে পিটিয়ে সুবর্ণা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছে তার স্বামী সোহেল। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার দিবাগত রাতে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। নিহত সুবর্ণা চকপাড়া গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. সোহেল মিয়ার স্ত্রী। সোহেল স্থানীয় একটি মরিচ-হলুদ ভাঙানোর কারখানায় কাজ করতেন। সুবর্ণা-সোহেল দম্পতির ৬ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। 

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে সাংসারিক অভাব-অনটন নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সোহেল ও সুবর্ণা দুজনেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উত্তেজিত সোহেল ঘরে থাকা একটি রেঞ্জ (ধাতব যন্ত্র) দিয়ে সুবর্ণার নাক-মুখ-মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। ওই সময় সুবর্ণা বাধা দিলে ওই রেঞ্জ তার পেটেও ঢুকিয়ে দেন সোহেল। এ সময় সুবর্ণার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে নরসিংদী মডেল থানায় খবর দেয়।

পরে রাত ২টার দিকে নরসিংদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় সুবর্ণাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুবর্ণার মৃত্যু হয়। পরে শনিবার সকালে তার লাশ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নরসিংদীর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, 'গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আমরা আটক করেছি। সে পুরো বিষয়টি স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'