বরিশালের ১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই মুজিব উর রহমানের ঘূর্ণিতে বিপর্যয়ে পড়ে খুলনা টাইগার্স। সেই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়া হলো না খুলনার। মুশফিকের দুর্দান্ত ইনিংসের পরেও ১৭ রানে বরিশালের কাছে হারল খুলনা।

শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য খুলনার দরকার ছিল ২১ রান, ব্যাটিংয়ে তখনো মুশফিকুর রহিম। তবে ১৯তম ওভারে মেহেদি হাসান রানার বোলিং তোপে একে একে ফেরেন ফরহাদ রেজা, শরিফুল্লাহ এবং মুশফিকুর রহিম। এতেই নিজেদের দ্বিতীয় জয় পায় ফরচুন বরিশাল। বল হাতে মাত্র ১৭ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন মেহেদী হাসান রানা।

শুরুতে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে বরিশালের সংগ্রহ ১৪১ রান। ফরচুন বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রান এসেছে ক্রিস গেইলের ব্যাট থেকে। এই ম্যাচেও ব্যাট হাতে পারফর্ম করতে পারেননি দলটির অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। মাত্র ৯ রান করে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। বরিশালের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান করেছেন তৌহিদ হৃদয়।

খুলনার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন কামরুল ইসলাম, থিসারা পেরেরা ও ফরহাদ রেজা। একটি করে উইকেট শিকার করেন মেহেদী হাসান, শরিফউল্লাহ ও সেকুগে প্রসন্নে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় খুলনা টাইগার্স। মাত্র ৫ তুলতেই দুই ওপেনারকে হারায় মুশফিকের দল। জোড়া আঘাত হানেন আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমান। তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়ে সে চাপ কিছুটা সামলানোর চেষ্টা করেন রনি তালুকদার ও মেহেদী হাসান। দলীয় ৩৬ রানে সাজঘরে ফেরেন মেহেদি। ২৩ বল মোকাবিলায় সমান এক বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারিতে তার ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। এরপর স্কোরবোর্ডে ৪ রান যোগ হতে ফেরেন রনি তালুকদার। আউট হওয়ার আগে তিনি ১৬ বলে ১৪ রান করেন।

৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুকতে থাকা খুলনা তখনও জয়ের আশা দেখছিলেন। কেননা উইকেটে তখনও ছিলেন মুশফিকুর রহিম। উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান শেষ পর্যন্ত কিন্তু বাকিদের কেউই সঙ্গ দিতে পারেননি মুশফিককে। তাই বিপর্যয়ের মুহূর্তেও ৩৬ বলে ৪০ রানের ইনিংসটি হয়ে যায় ব্যর্থ। বরিশালের হয়ে ১৭ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকার করেন মেহেদী হাসান রানা।

খুলনা টাইগার্স

মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), আন্দ্রে ফ্লেচার, সৌম্য সরকার, রনি তালুকদার, ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি, থিসারা পেরেরা, শেখ মাহেদি হাসান, ফরহাদ রেজা, মোহাম্মদ শরিফউল্লাহ, সেকুগে প্রসন্না ও কামরুল ইসলাম রাব্বি।

ফরচুন বরিশাল একাদশ

সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত, ক্রিস গেইল, তৌহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), জিয়াউর রহমান, জ্যাকব লিন্টট, মুজিব উর রহমান, মেহেদি হাসান রানা ও শফিকুল ইসলাম।