বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হল কমিটিতে বিতর্কিতদের কোনো ধরনের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ঢাবির ১৮টি হল ছাত্রলীগের সমন্বিত সম্মেলন উপলক্ষে শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান সংগঠনের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

বঙ্গমাতা হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রনক জাহান রাইনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে ঢাবির বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সনজিত চন্দ্র দাস। লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সনজিত-সাদ্দাম।

লিখিত বক্তব্যে সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, সম্মেলনের অন্যতম গুরুদ্বপূর্ণ বিষয় ‘নেতৃত্ব নির্বাচন’। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার দৃষ্টিভঙ্গিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে একবিংশ শতাব্দীর এই পর্যায়ের ‘নিউ নর্মাল রিয়েলিটিকে’ বিবেচনায় নিয়ে রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের উপযোগী মানবসম্পদ গড়তে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন কর্মীদেরকেই নেতৃত্বে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করা হবে।

নেতৃত্বে কারা অগ্রাধিকার পাবেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সনজিত বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের আপন মনে করে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, শিক্ষার্থীদের অধিকারের বিষয়ে রাজপথে আন্দোলন করতে পারবেন, বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনের খাবারের মানোন্নয়ন করবেন, গণরুম ব্যবস্থাকে  জাদুঘরে পাঠাবেন- এমন কর্মীবান্ধব নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যদিকে যাদের নামে কোনো ধরনের অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের মামলা রয়েছে অথবা অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত তাদেরকে নেতৃত্বে আনা হব না।

হল কমিটি কবে নাগাদ হতে পারে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী, আওয়ামীলীগের দায়িত্ব পর্যায়ের যারা আছেন তারা যখন নির্দেশনা দেবেন, তখনই কমিটি দেওয়া হবে। আমরা প্রস্তুত আছি। ৩০ তারিখ হল সম্মেলন শেষে সর্বোচ্চ দুই তিন দিন অথবা এক সপ্তাহ লাগতে পারে।

পারিবারিক আওয়ামী সম্পৃক্ততাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সনজিত বলেন, যারা আদর্শিক এবং পারিবারিকভাবে আওয়ামীলীগের কর্মী রয়েছে তারা অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে আমরাও যাই, পদপ্রত্যাশীরাও যাবেন। তাই আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যদি কারও নাম বলেন, আমরা অবশ্যই সেটি বিবেচনা করব।

সংবাদ সম্মেলনে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সম্মেলন নিয়ে বিভিন্ন মহল ও গণমাধ্যমের যে প্রত্যাশা, এটি প্রমাণ করেছে যে,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের নির্ভতার একমাত্র ঠিকানা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের অনিবার্য প্রতিষ্ঠান। আমরা হলগুলোতে তেমনই নেতৃত্ব চাই, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব প্রদান করবেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ভ‚মিকা রাখবেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশকে সমুন্নত রাখতে পারবেন, ‘পলিটিকাল ব্যারিয়ার’ থেকে বেরিয়ে ক্যারিয়ারকে প্রাধান্য দিয়ে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবেন। অন্যদিকে, বিতর্কিত কেউ নেতৃত্বে স্থান পাবেন না।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে হলগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এবি এম মোজাম্মেল হক, ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।