প্রতারণা করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর অবশেষে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) জালে ধরা পড়েছে জিনের কথিত বাদশা জাকির। 

সন্তানের প্রাণ বাঁচানো, গুপ্তধনের লোভ, স্বামী-স্ত্রীর কলহ, নিঃসন্তান নারীর সন্তান লাভসহ সব সমস্যার সমাধান দেওয়া, অদৃশ্য জগতের মহাক্ষমতার অধিকারী করা এবং জিন-ভূতের আসর দূর করতে জিনকে পাতিলবন্দি করার নাম করে অসচেতন লোকজনের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে ইতোমধ্যেই জাকির হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকা। একই কথা বলে এক প্রবাসীর স্ত্রীসহ দুই ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা নিয়েছেন তিনি।

শনিবার র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন।

অবশেষে গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর আস্তানা থেকে কথিত জিনের বাদশা জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জাকির বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়া বাকপুর গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার একটি বাড়িতে আখড়া বানিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। 

র‌্যাব জানায়, জাকির হোসেনের প্রতারণার শিকার হন চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার রোমানা নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী। ২০১৩ সালে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে জাকিরের ওই বাসায় সাবলেট ভাড়াটে হিসেবে বসবাস শুরু করেন। কিছু দিন পর রোমানার শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। এ সুযোগ নেন জাকির। তিনি রোমানাকে ঝাড়ফুঁক করে দেন। এতে জাকিরের ওপর অগাধ বিশ্বাস জন্মে তার। এরপর প্রবাসীর স্ত্রীর মেয়ে অসুস্থ হলে জাকিরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। মেয়ের ওপর বদ জিনের বাদশা ভর করেছে জানিয়ে জাকির বলেন, মেয়েকে ভালো করতে হলে জিনকে পাতিলবন্দি করতে হবে। এজন্য পাঁচ লাখ টাকা লাগবে। 

মেয়ের জীবন বাঁচাতে জাকিরকে পাঁচ লাখ টাকা দেন রোমানা। কিছু দিন পর তিন মাসের মধ্যে ২৫ লাখ টাকা না দিলে তার ও মেয়ের জীবন বাঁচানো যাবে না বলে জানান জাকির। এ টাকা না দিলে কয়েকদিনের মধ্যেই বদ জিনেরা তার পুরো পরিবারকে একে একে মেরে ফেলবে বলে ভয় দেখান। আর যদি বদ জিন বিতাড়িত হয়ে যায় তবে রোমানা পাবে জিনদের লুকায়িত গুপ্তধন। সন্তানদের প্রাণ বাঁচাতে ও গুপ্তধনের লোভে নিজের যাবতীয় গহনা, জমানো টাকা ও ধার করে তিন মাসের মধ্যেই ২৫ লাখ টাকা জাকিরের হাতে তুলে দেন তিনি। এরপর জিন চালান দিয়ে বদ জিনদের পাতিলবন্দি করা হয়েছে বলে জানান জাকির।

এরপর রোমানার বোনের মেয়ের ওপর ভয়ঙ্কর জিনের আসর হয়েছে বলে জানান জাকির। জিনের আসর থেকে মুক্তি পেতে ও অলৌকিক শক্তি প্রাপ্তির লোভে জমি বিক্রি ও ধার করে ছয় মাসে ধাপে ধাপে জাকিরের হাতে ৫০ লাখ টাকা তুলে দেন রোমানার ভগ্নিপতি খায়ের। কিন্তু অলৌকিক শক্তি প্রাপ্তি না হওয়ায় খায়ের জাকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জাকির জানান, ১০০টি নদীর পানিতে শূকর ও চিলের হৎপিণ্ড দিয়ে সাধনা করতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন আরও ২০ লাখ টাকা। টাকা সংগ্রহের পথ না পেয়ে খায়ের বিষয়টি তার ছেলেকে জানান। খায়েরের ছেলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ২২ জানুয়ারি র‌্যাবের কুমিল্লা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে প্রযুক্তির সহায়তায় জাকির হোসেনকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছে। এ ব্যাপারে কচুয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে।