নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, অত্যাচার-জুলুম না করলে সরকারকে বুঝিয়ে দিতাম, জাহাঙ্গীর কবির নানককে বুঝিয়ে দিতাম- ঘুঘুর ফাঁদ কোথায়। একটা লোক অ্যারেস্ট হলে এলাকা কানা হয়ে যায়। সেটা করতে হাতির ব্যাজ যার কাছে পেয়েছে, তাকেই ধরা হয়েছে। পরে আমার সমর্থকরা ব্যাজ না লাগিয়ে মাঠে ছিল।

শনিবার সন্ধ্যায় শহরের মাসদাইরে মজলুম মিলনায়তনে ‘ইভিএম মেশিনে ভোট, জাতির জন্য অশনিসংকেত’ শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তৈমূর আলম খন্দকার।

তৈমূর বলেন, বলা হয় নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের সঙ্গে সুশাসন না থাকলে তো জনগণের লাভ হয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেন, দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, তবে দেশে কোনো সুশাসন নেই। উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে একটা গ্রুপ। আওয়ামী লীগেও একটা অংশ আছে, যারা নির্যাতিত। কিন্তু যারা প্রধানমন্ত্রী পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট, তারাই সুবিধা ভোগ করে।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন চলছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। সুবিধা ভোগ করছে সিন্ডিকেট, সাধারণ মানুষ না। জাইকার উন্নয়নের শেয়ার কোথায় যায়? সময় হলে সবই বলব। আমি বিনা হিসাবে নির্বাচন করতে আসিনি। এ নির্বাচনে আমার লাভ হয়েছে, পাশাপাশি দলেরও লাভ হয়েছে। আমাকে যতই বহিষ্কার করুক, আমি বিএনপিতেই থাকব।

তৈমূর আলম বলেন, এর আগে কেউ বুঝতে চাইত না, দল বলেছে, তাই আমি বসে গেছি। আমার লাভ হচ্ছে। এবার প্রমাণ হয়েছে আমি পালিয়ে যাওয়ার লোক না। এবারও যদি দল বলত, তাহলে আমি বিষয়টা দেখতাম। এবার প্রমাণ হয়েছে, আমি পালিয়ে যাওয়ার মানুষ না। দলেরও লাভ হয়েছে- এত দিন ঘর থেকে বের হতে পারিনি। এবার ঘর থেকে বের হয়েছি। সরকার বুঝেছে, জনগণও বুঝেছে যে বিএনপি আছে। আর এ কারণেই কূটকৌশল করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর কমিশনারের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি মেয়রের (আইভীর) আত্মীয়। ২০১১ সালের নির্বাচনে তার স্ত্রী আমাকে নির্বাচনের চার দিন আগে জানিয়েছিলেন, মেয়রের বাড়ি থেকে শুনে এসেছেন যে আমাকে বসিয়ে দেওয়া হবে। কালু ভাই আমাকে নির্বাচনের ১০ দিন আগে বলেছিলেন, আপনাকে বহিষ্কার করা হবে। তিনিও নাকি আইভীর কাছ থেকে জেনেছেন। আমি বুঝি না, আমরা দল করি, অথচ আমরা জানার আগেই অন্য দলের মেয়র কীভাবে জানে, নেত্রী আমাকে বসিয়ে দেবে। কীভাবে জানে, আমাকে বহিষ্কার করা হবে। আপনারা তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।

তৈমূর বলেন, আমার মনে হয়. নির্বাচনের সময় নারায়ণগঞ্জের এসপি একটা কন্ট্রাক্ট নিয়েছিলেন আমার লোকজনকে গ্রেপ্তার করার জন্য। 

তিনি বলেন, বিএনপির আজ দুর্দিন। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারেক রহমানকে মেনেই রাজনীতি করছিলাম, করি, করব। এত দিন যেভাবে পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।