বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির এমডি প্রকৌশলী কামরুজ্জামানসহ ১২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫০ জন চীনা কর্মকর্তা-কর্মচারীও রয়েছেন।এ অবস্থায় বাংলাদেশের সাড়ে চারশ’ শ্রমিককে সাধারণ ছুটি দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে খনি থেকে কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম। তবে কয়লা উত্তোলন বন্ধ হওয়ায় পাশের কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও আগামী ৩ মাস পর্যন্ত তাতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জনা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কয়লা উত্তোলন কাছে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি এক্সএমসি, পেট্রোবাংলা ও দেশের শ্রমিকরা কর্মরত আছেন। হঠাৎ করেই খনিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। এরই মধ্যেই ৫০ জন চীনা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কয়লা খনির এমডিসহ ৭৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সেই সঙ্গে দেশের কিছু শ্রমিকও আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। বাধ্য হয়ে দেশের সাড়ে চারশ’ সাধারণ শ্রমিককে ছুটি দিয়ে বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান সমকালকে বলেন, খনিতে কর্মরত চীনা কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫০ জনের মতো করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া পেট্রোবাংলার অধীন বড়পুকুরিয়া কোল মাইন কোম্পানির ৭৫ জনের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকেই করোনা উপসর্গ নিয়ে বাসায় অবস্থান করছেন। বাধ্য হয়ে হয়ে দেশের সাড়ে চারশ’ শ্রমিককে ছুটি দিয়ে কয়লা উত্তোলন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, প্রতিদিন খনি থেকে তিন হাজার টনের মতো কয়লা উত্তোলন হতো। বর্তমানে খনির কোল ইয়ার্ডে ২ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা মজুদ আছে। আগামী তিন মাস পর্যন্ত কয়লা খনি বন্ধ থাকলেও তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার ঘাটতি হবে না।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী ওয়াজেদ আলী জানান, কয়লা খনি ও তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে পরিমাণ কয়লা মজুদ আছে তা দিয়ে আগামী আড়াই মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে কোনো সমস্যা হবে না।