শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের পর এবার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের খাবার নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের খাবার, অপ্রয়োজনীয় জরিমানা, বাধ্যতামূলক খাওয়ার নিয়ম ও হলের ডাইনিংয়ের টাকা জমা দেওয়া নিয়ে কঠোরতার অভিযোগ উঠেছে। 

শাবির মতো প্রকাশ্যে আন্দোলন শুরু না হলেও সিকৃবির হলের শিক্ষার্থীরা এরই মধ্যে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি একাধিক ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচার করেছেন। বিষয়টি সমাধান না হলে শাবির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। কর্তৃপক্ষ হলের খাবারের মান ভালো নয় স্বীকার করে নানা সীমাবদ্ধতা ও বকেয়া টাকার জন্য নিয়ম পরিবর্তন হয়েছে বলে জানিয়েছে।

সিকৃবিতে পাঁচটি ছাত্র হল ও দুটি ছাত্রী হল রয়েছে। এর মধ্যে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের বিভিন্ন অসংগতি ও সমস্যা বেশি। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দেখা গেছে। 

তারা জানিয়েছেন, হলের ডাইনিংয়ে বসে খাবার খাওয়া বাধ্যতামূলক। খাবার রুমে নিয়ে গেলে চোর সম্বোধন করা হয়। নিম্নমানের চাল, সকালের অবশিষ্ট ভাত দুপুরে, দুপুরের অবশিষ্ট ভাত রাতে দেওয়া হয়।

স্নাতকের এক শিক্ষার্থী জানান, হলে থাকেন বা না থাকেন, খাবারের টাকা দিতেই হবে। ২০ দিন না খেলে মাসিক ফিস্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা দিতেই হবে। 

আরেক শিক্ষার্থী জানান, ২০০ টাকা জরিমানা হয় একমাত্র এ হলেই। কোনো মাসের টাকা জমা দেওয়ার পরও যদি কোনো কারণে ন্যূনতম পাঁচ টাকা বাকি থাকে, তাহলে ২০৫ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া হলে ওয়াই-ফাই ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সমস্যাসহ নানা সমস্যা রয়েছে।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আনজুমান আরা খাবারের মান ভালো নয় স্বীকার করে বলেন, এসব খাবার খেয়ে ছাত্রীরা পড়াশোনা করতে পারে না। আমরা বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করছি। 

তিনি জানান, অনেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের টাকা বকেয়া রেখে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি এসেও টাকা বকেয়া রেখেছে। জানুয়ারি মাসে সেই টাকা না দেওয়ায় শৃঙ্খলা আনতে নিয়ম করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, কেউ অসুস্থ হলে ডাইনিং ম্যানেজার রুমে গিয়ে খাবার দিয়ে আসেন। হলে শিক্ষার্থীরা খাবার খায় এবং প্রতিদিন ৫৫ টাকায় তিনবেলা খাবার পরিবেশন করা হয়। আটজন লোকের স্থলে তিনজন দিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।