দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে উত্তরের জেলা দিনাজপুরে। শৈত্যপ্রবাহের কাবু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন শীতজনিত নানা রোগে। জেলার হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর ভিড়।

বুধবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্ব‌নিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশ‌মিক ৩ ডিগ্রি সেল‌সিয়াস রেকর্ড করা হ‌য়ে‌ছে। যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় জেলায় বাতা‌সে আর্দ্রতা ৯০ শতাংশ ও বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার ছিল।

দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আজ সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্র দিনাজপুরে রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশ‌মিক ৩ ডিগ্রি সেল‌সিয়াস। আর দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেতুলিয়ায় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেল‌সিয়াস। এছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সৈয়দপুরে ৯ দশমিক ৮, রংপুরে ১১ দশমিক ৫, ডিমলায় ১১, নওগাঁয় ১০ দশমিক ৪, রাজশাহীতে ৯ দশমিক ৯, চুয়াডাঙ্গায় ১০ দশমিক ৭ এবং শ্রীমঙ্গলে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ২১ জন আর ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১০ জন রোগী ভর্তি আছেন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া ১০ জনের মধ্যে তিনজন শিশু।  

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফিলোমিনা কুজুর সমকালকে বলেন, ‘যারা ভর্তি হচ্ছে তা সবাই ঠান্ডা জনিত সমস্যার কারণে। তবে মায়েরা যদি শিশুদের এই সময়ে ভালোভাবে খেয়াল রাখে তাহলে সমস্যা থেকে নিরসন পাওয়া সম্ভব। ’

এদিকে দিনাজপুর অরবিন্দ শিশু হাসপাতালেও গত এক সপ্তাহে ভর্তি হয়েছে ২১৫ জন শিশু। প্রতিদিনই এখানে ২৫ থেকে ৩০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে।

এই হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মনিন্দ্র নাথ রায় জানান, ‘প্রতিদিন এখানে ২০ থেকে ২৫ জন শিশু ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে। প্রধান সমস্যাগুলো হচ্ছে সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়া। এসময় শিশুদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে কোনোভাবে যেন ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’