সারাদেশে গত ৩১ জানুয়ারি কনকনে বাতাস আর শীতের সঙ্গে ছিল কুয়াশা। তাপমাত্রা নামে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ থাকলেও সারাদেশে শীত জেঁকে বসেনি। গত দু’দিনে শীত কিছুটা কমেছে। দিনে মেজাজ দেখিয়ে সূর্য আলো ছড়াচ্ছে। তবে কি শীতের বিদায় নেওয়ার সময় হয়ে গেছে? 

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, যেতে যেতে পিছু ফিরে তাকাতে পারে শীত। এ মাসে ঝরবে দুই দফা বৃষ্টিও। তার জেরেই মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত থাকবে শীতের আমেজ।

মাঘের শেষ সময়ে এসে দেশের উত্তরাঞ্চলজুড়ে শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। বুধবারের মধ্যে এটি কেটে যাওয়ার পর হালকা বৃষ্টি হতে পারে। কানাডার সাচকাচুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ সমকালকে জানান, জেট স্ট্রিম বা পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে আগামী ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল এবং রাজশাহী জেলায় ১০ থেকে ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ১২ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবারও শীত বাড়তে থাকবে। ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর তাপমাত্রা আবার কমবে। শীত স্থায়ী হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তবে দিনে গরম রাতে ঠান্ডা ভাব থাকবে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। এরপর তাপমাত্রা মাথাচাড়া দিতে পারে। আবহাওয়া পূর্বাভাসের আমেরিকান মডেল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মডেল পর্যালোচনা করে তিনি এসব কথা জানান।

গত ৪-৫ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের ফসল, বিশেষ করে আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়। আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানান, গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি মৌসুমের প্রথম দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। এখন চলছে চলতি মৌসুমের চতুর্থ শৈত্যপ্রবাহ। রংপুর বিভাগের পাশাপাশি রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, নওগাঁ ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সীতাকুণ্ডে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

শাহীনুল জানান, শৈত্যপ্রবাহ আর তীব্র হবে না। শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলে ১০ ফেব্রুয়ারির দিকে কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবারের পর তাপমাত্রা কয়েক দিন বাড়তি থাকবে। মাঘ শেষ হলেও এ বৃষ্টির পর আবার শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।