স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করে কারাবন্দি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। আজ বুধবার সচিবালয়ে হেফাজত মহাসচিব শায়েখ সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল স্বরাষ্টমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে।

হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিনিধি দলে থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি সমকালকে বলেন, হেফাজত নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামাদের মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তরিকতার সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের কথা শুনেছেন।

গত বছরের মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অতিথি করার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সংঘর্ষের পর হেফাজতের কর্মসূচি ও হরতালে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে। সহিংসতার মামলায় হেফাজতের সেই সময়কার অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাসহ ছয় শতাধিক কর্মী সমর্থক গ্রেপ্তার হন।

ওইসব ঘটনার পর হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। নতুন কমিটিতে মামুনুল হকসহ কারাবন্দি কাউকে রাখা হয়নি। গত জুনে গঠিত কমিটির আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী মারা গেছেন। তাদের পরে হেফাজতের নেতৃত্বে আসা নেতারা আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, নেতাকর্মীরা ১০ মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে। একেকজন বন্দির পরিবার ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান সমস্যাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। কেউ কেউ একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

২০১৩, ২০১৬ ও ২০২১ সালের মামলার প্রত্যাহার করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে উল্লেখ করে মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। কারাবন্দি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যেন পরিবারের সদস্যরা দেখা ও যোগাযোগ করতে পারেন- সেই ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

হেফাজতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন নায়েবে আমির আল্লামা শাহ আতাউল্লহ হাফেজ্জী, হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ইয়াহিয়া, দেওনার পীর অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদরীস নদভী।