আসল অপরাধীর বদলে চট্টগ্রামের কারাগারে সাজাভোগ করা সেই মিনুর হতভাগ্য দু সন্তানের জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মুমিনুর রহমানের কাছে পাঁচ লাখ টাকার অনুদান তুলে দিয়েছে কেএসআরএম। 

বুধবার কেএসআরএমের পক্ষে ভরণ পোষণের এই চেক ডিসির হাতে তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম। এই টাকা ফিক্সড ডিপোজিট আকারে থাকবে মিনুর দুই সন্তানের ভবিষ্যত বিপদ আপদের জন্য। আর জেলা প্রশানের উদ্যোগে দুই সন্তানকে ভর্তি করানো হবে এসওএস শিশু পল্লীতে। 

হতভাগা মিনুকে নিয়ে সমকালে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মিনু ও তার সন্তানদের সমকালে প্রকাশিত সংবাদে বিস্তারিত তথ্য জেনে দুই সন্তানের জন্য এমন উদ্যোগ নিতে আগ্রহী হয় কেএসআরএম।

কেএসআরএমের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম জানান, মূলত সমকালে প্রকাশিত একাধিক ধারাবাহিক প্রতিবেদন থেকে মিনু ও তার হতভাগ্য দুই সন্তানের যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত সম্পর্কে জানতে পারি আমরা। তখন থেকে দুই সন্তানের জন্য কিছু করার উদ্যোগী হয়ে উঠি। অবশেষে মিনুর দুই সন্তানের জন্য কেএসআরএমের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছি। এই টাকা ফিক্সড ডিপোজিট আকারে থাকবে। 

ডিসি মো. মুমিনুর রহমান বলেন, মানবিক দায়িত্ব হিসেবে মারা যাওয়া মিনুর দুই সন্তানদের জন্য কেএসআরএমের এমন উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। তাদের এমন কাজ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এসএসসি পর্যন্ত দুই সন্তান এসওএস শিশু পল্লীতে বিনা খরচে পড়ার ব্যবস্থা করা হবে। 

উল্লেখ্য, মিনুকে নিয়ে ‘আয়নাবাজি’ নয় নির্মম প্রতারণায় তিন মৃত্যু-এমন নানা শিরোনামে চারটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন সমকালে প্রকাশিত হয়। যা দেখে টনক নড়ে প্রশাসনসহ সব মহলে। 

মিনু আক্তার ৩০ বছরের এক অভাবী নারী। থাকত চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকার ৬ নং সমাজে। চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে ২০০৬ সালে এক নারীকে হত্যার দায়ে ২০১৭ সালে কুলসুমা আক্তার নামের এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায়ের সময় তিনি ছিলেন পলাতক। সাজা না খাটতে ২০১৮ সালে মিনুকে কুলসুমা সাজিয়ে আদালতে পাঠায় কুলসুমা। 

আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই না করে মিনুকে পাঠিয়ে দেয় কারাগারে। তিন বছর পর এ ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। উচ্চ আদালত মিনুকে মুক্ত করে আসল অপরাধীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশের পর গ্রেফতার হয় সেই কুলসুমা। গত বছরের ১৬ জুন মুক্তি পায় মিনু। কিন্তু এর ১৩ দিনের মাথায় একেবারে জীবন থেকেই ছুটি নেয় মিনু। ২৯ জুন বাড়ির পাশের এক সড়কে মেলে তার মরদেহ।