শেরপুরে চেক জালিয়াতির মামলায় জেলা পরিষদের এক নারী সদস্য ও তার স্বামীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে হাজির হয়ে ওই দম্পতি জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মো. শরিফুল আলম খান জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বাদী সাংবাদিক মো. মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘২০২০ সালে শ্রীবরদী পৌর শহরে নলকূপ স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প জেলা পরিষদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হয়। ওই প্রকল্পে আমাকে সভাপতি করেন জেলা পরিষদ সদস্য কোহিনুর আক্তার ও তার স্বামী মো. মাসুদুর রহমান লাজু। এসময় স্থানীয় কৃষি ব্যাংকে একটি হিসাব খোলা হয়। হিসাব খোলার পর চেক বইসহ প্রকল্পের সব কাগজ তাদের কাছেই রেখে দেন কোহিনুর ও লাজু।’

তিনি আরও বলেন, ’এর কিছুদিন পর পারিবারিক কারণে আমার সঙ্গে ওই দম্পতির সর্ম্পকের অবনতি হয়। পরে জানতে পারি আমার বিরুদ্ধে তারা আদালতে ১ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅর্নারের মামলা করেছেন। আমিও আদালতে পাল্টা মামলা করি। আদালত পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে আমার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। এরপর আদালত আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্বাক্ষরকৃত চেকটি সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠান। সেখানেও জাল স্বাক্ষর প্রমাণিত হয়।’

এ ব্যাপারে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আল আমিন বলেন, ‘বাদী মিজানুর রহমান মিন্টু আমার মক্কেলের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে একটি চেক দেন। কিন্তু চেকের স্বাক্ষরটি ছিলো জাল। পরে টাকা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে আদালতে চেক ডিজঅর্নার মামলা হয়।’

শ্রীবরদী আমলী আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, চেক জালিয়াতিতে সহযোগিতা করার অভিযোগে কোহিনুর আক্তার ও তার স্বামীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।