হাত থেকে গড়িয়ে পড়ছে 'রক্ত'। এই হাতের ছাপে 'রক্তাক্ত' দেয়াল। এমনই এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের সামনে। এখানেই তিন দফা দাবিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট এবং সাউন্ড গ্রেনেডের নির্মম হামলায় রক্তাক্ত হয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপাচার্যের পদত্যাগ ও শিক্ষার্থীদের ওপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং বন্ধ করে দেওয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও রক্তিম হাতের ছাপ দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, 'গত ২৬ শে জানুয়ারি আমাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তার দৃশ্যমান প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের ওপর দু'টি মিথ্যা মামলাও প্রত্যাহার হয়নি। চিকিৎসা ও খাবারে সাহায্য করায় বন্ধ করে দেওয়া বিকাশ অ্যাকাউন্টও খুলে দেওয়া হয়নি।'

এদিকে গত ২৬ জানুয়ারি অনশন ভাঙার পর থেকে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী গান, কবিতা এবং রঙ-তুলির আঁচড়ে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলো।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, 'গত ১৬ই জানুয়ারি ক্যাম্পাসের যেখানে শিক্ষার্থীরা পুলিশের লাঠিচার্জ, শটগান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের হামলার শিকার হয়েছিল, সেখানে সব অন্যায্যতা-নিপীড়ন-জুলুমের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যে চিরন্তন লড়াই; তার ইশতেহার হিসেবে 'রক্তিম হাতের ছাপ' আঁকা হয়েছে।'

এর আগে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে দিয়ে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।  এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে উপাচার্য বিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা পুলিশি হামলার শিকার হওয়া স্থানে লাল রঙ হাতে নিয়ে দেয়ালে দেয়ালে 'রক্তাক্ত' হাতের ছাপ দেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বেগম সিরাজুন্নেছা চৌধুরী ছাত্রী হলের সমস্যা নিয়ে ছাত্রীরা প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজার সঙ্গে কথা বলেন এবং সে সময় প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন- এমন অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এরপর থেকে গত ১৬ জানুয়ারি উপাচার্য অবরুদ্ধ হলে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট এবং সাউন্ড গ্রেনেড দিয়ে হামলার পর থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন।