টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র শহিদুর রহমান খান মুক্তি অন্তবর্তী জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ এ আদেশ দেন।

আদালত সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে আসামিকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এদিন আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিউলী রানি দাসের স্বাক্ষী গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তিনি উপস্থিত না থাকায় আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। আইনজীবী আদালতকে জানান, আসামি শহিদুর রহমান খান মুক্তির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তার অক্সিজেনের পরিমান নিম্নগামী। এছাড়াও নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা করা না হলে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম বলেন, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলার ধার্য তারিখ পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ শহরের কলেজপাড়ায় নিজ বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার দুইদিন পর নিহতের স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্থানান্তরিত হয়। তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন এসআই অশোক কুমার সিংহ (পিপিএম) এ হত্যাকাণ্ডে সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ভাইদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র শহিদুর রহমান খান মুক্তি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পাসহ ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক গোলাম মাহফীজুর রহমান। এরপর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন আদালত।