রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের রফিজ মণ্ডল ও সুফিয়া বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে প্রথম বেবি বেগম। অসচ্ছলতার কারণে মাত্র ৯ বছর বয়সে তাকে রাজধানীর মিরপুরে কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাসায় কাজে পাঠিয়েছিলেন এ দম্পতি। 

কথা ছিল বাসায় কাজ করানোর পাশাপাশি পড়াশোনা করানো হবে বেবিকে। তবে গৃহকর্তা পড়াশোনা তো করানইনি উল্টো নানা সময় নির্যাতন করতেন শিশুটিকে। নির্যাতন সহ্য না করতে পেরে ১০ মাস পর ওই বাসা থেকে পালিয়ে যায় বেবি।

পরে মিরপুরেই বেবির সঙ্গে দেখা হয় বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামের ওয়াজেদ আলী সরদারের স্ত্রী শাহানুর বেগমের। বেবির কান্না দেখে এবং কষ্টের কথা শুনে শাহানুর তাকে আগৈলঝাড়ার বাড়িতে নিয়ে যান। এই ঘটনা ২০০১ সালের।

সেই থেকে নিজের সন্তানের মতো বেবিকে লালন-পালন করেন শাহানুর বেগম। ঘটা করে বিয়ে দেন পাশের নগরবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী সোহেল ফকিরের সঙ্গে। সেই বেবি এখন এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। তবে আসল মা-বাবাকে হারিয়ে ফেলেন বেবি।

দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর অবশেষে বেবি খুঁজে পেয়েছেন তার আসল বাবা-মা রফিজ মণ্ডল ও সুফিয়া বেগমকে। বেবিকে লালনপালন করা শাহানুর বেগম জানান, কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বেবি তার বাবা-মাকে খুঁজে পান। পরিচয় নিশ্চিত হয়ে রফিজ-সুফিয়া দম্পতি গত মঙ্গলবার ছুটে যান আগৈলঝাড়ায়। ওই দিন রাতেই শাহানুর তাদের হাতে বেবিকে তুলে দেন। 

বুধবার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার মেয়ে, জামাই ও দুই নাতিকে নিয়ে তারা রওনা হয়েছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর গ্রামের নিজ বাড়ির উদ্দেশে।

শাহানুরের ছেলে ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দীন সরদার জানান, আপন বোনের মতোই বেবি তাদের ঘরে বড় হয়েছে। মা শাহানুর বেগম বেবিকে অতি যত্নে বড় করেছেন। মা-বাবাকে খুঁজে পাওয়ায় বেবির মতো তারাও খুশি।

বেবি বেগম বলেন, শাহানুর বেগম তাকে খুব যত্ন করতেন। নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। তারপরও মনের মধ্যে জন্মদাতা বাবা ও গর্ভধারিণী মাকে দেখার জন্য মন আনচান করত তার। গোপনে অনেক কেঁদেছেন। বাবা-মাকে খুঁজে পাওয়ায় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রফিজ ও সুফিয়া দম্পতি জানান, মোবাইল ফোনে কথা বলে তারা বেবির বিস্তারিত জেনে নিশ্চিত হয়েছেন, এই বেবিই তাদের প্রথম সন্তান। এর পরই তারা আগৈলঝাড়ায় যান। বেবিকে নিজ সন্তানের মতো বড় করায় শাহানুর বেগমের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তারা।