কক্সবাজারের চকরিয়ায় ট্রাকচাপায় পাঁচ ভাই নিহতের ঘটনার তিন দিন পরও ঘাতক চালককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে হতাশার পাশাপাশি বাড়ছে ভীতি। 

এদিকে পাঁচ উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে প্রায় পথে বসে গেছে পরিবারটি। আহতদের চিকিৎসা খরচ জোগানো এবং দৈনন্দিন ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে চরম সংকট দেখা দিয়েছে পরিবারে।

নিহতদের মা মানু বালা বলেন, ‘পাঁচ জনের মৃত্যুর পর পরিবারে আয় করার মতো কেউ থাকল না। হাসপাতালে যারা ভর্তি আছে, তাদের অবস্থা ভালো নয়। এখন সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। এর ওপর আহতদের চিকিৎসা ব্যয়। কীভাবে মেটাব এত খরচ? অর্থ সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।’ 

নিহত স্মরণ শীলের স্ত্রী কৃষ্ণা শীল বলেন, ‘দুধের শিশুসহ দুই সন্তান নিয়ে চরম অসহায়ত্ব বোধ করছি। খেয়ে-না খেয়ে হয়তো বেঁচে থাকতে পারব; কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে? তাদের লালন-পালন করবে কে?’

এদিকে বৃহস্পতিবার চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তফিকুল আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। 

তারা মানু বালাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ঘাতক ট্রাকচালককে যত দ্রুত সম্ভব গ্রেপ্তার করে তাদের সামনে হাজির করা হবে। পরে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে কিছু নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।

অবিলম্বে ওই পরিবারের জন্য স্থায়ী বসতবাড়ির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর। 

তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন সরকারি খাসজমি চিহ্নিত করে তাদের পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নিয়েছে। নিহতদের অপর দুই ভাই ও এক বোনের চিকিৎসা ব্যয় বহনেরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিহতদের চাচা বাঁশখালী কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা চিত্তরঞ্জন শীল জানান, তার চিকিৎসাধীন দুই ভাতিজা ও এক ভাতিজির মধ্যে রক্তিম শীলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

নিহতদের স্বজন লিটন শর্মা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে টিকে রাখতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রয়োজন। এজন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাবার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মালুমঘাটের ফকিরশাহ এলাকায় রাস্তা পার হতে গিয়ে ট্রাকচাপায় নিহত হন পাঁচ ভাই। এ সময় আহত হন তাদের আরও দুই ভাই ও এক বোন।