ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী গ্রামের মহাসড়কের পাশে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর পালানোর সময় ইয়াদ আলী (৪৫) নামে একজনকে আটক করে ঝিনাইদহ র্যা ব-৬-এর কাছে হস্তান্তর করেছে এলাকাবাসী। এ ছাড়া পিরোজপুরের নাজিরপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী।

ঝিনাইদহে নিহত বিবিজান নেছা (৫৫) পোড়াহাটী গ্রামের আনু মিয়ার স্ত্রী। বিবিজানের স্বজন আফজাল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তার চাচি গ্রামের ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের একটি পুকুর পাড়ে ঘাস কাটতে যান। আটক ইয়াদ একা পেয়ে তার চাচিকে সেখানে ধর্ষণ করে। পরে তার দুই হাত ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি মুখমণ্ডল শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে থেঁতলে দেয়। দিনদুপুরে ওই ঘটনা দেখতে পেলে স্থানীয়রা ইয়াদকে আটক করে। আর মুমূর্ষু অবস্থায় বিবিজানকে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, ইয়াদ আলী জিজ্ঞাসাবাদে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। তাকে অপ্রকৃতিস্থ ও মাদকাসক্ত বলে মনে হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার বিল ডুমুরপাড়া গ্রামে। বিবিজানকে হত্যা করার কথাও স্বীকার করেছে সে। তবে সে ঘটনাস্থলে কীভাবে এলো, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে পিরোজপুরের নাজিরপুরে ১৮ বছরের এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে ধর্ষণের ওই ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই তরুণী নাজিরপুর থানায় মামলাটি করেন।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক দু'জন হলেন উপজেলার শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের বাঘাজোড়া গ্রামের কবির হোসেন গাজী ও রাব্বি শেখ। আরেকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এজাহার থেকে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তরুণীর বাবা পাশের একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। ওই সময় তরুণী বাড়িতে একা ছিলেন। এই সুযোগে তিন আসামি কৌশলে ঘরের দরজা খুলে ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।

নাজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর ওই তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।