কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার ফের বেড়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযান চালিয়ে দুই দিনে তিন লাখ ৬৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে এক রোহিঙ্গাকে।

এপিবিএনের অধিনায়ক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান পিপিএম জানিয়েছেন, উখিয়ায় ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি ১৬ নম্বর ব্লকে রোহিঙ্গা সাদেক হোসেনের (২৫) বসতঘরে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এপিবিএন বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় উদ্ধার করা হয় এক লাখ ৬৯ হাজার পিস ইয়াবা। সাদেক হোসেনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে উখিয়া থানায় মামলা হয়েছে।

এর আগে বুধবার ভোর রাতে কক্সবাজারে বিজিবি-৩৪ ব্যাটালিয়ন উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের আমবাগান সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

বিজিবি-৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. মেহেদি হোসাইন কবির জানান, গোপন সূত্রে সীমান্তে মাদকের একটি বড় চালান আসার খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল বুধবার রাতে স্থানীয় আমবাগানে অবস্থান নেয়। ভোর রাতের দিকে ইয়াবা পাচারকারীরা সীমান্ত এলাকা থেকে হেঁটে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিজিবি টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় চোরাকারবারিরা টহল দলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বিজিবিও পাল্টা জবাব দেয়। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ মাটিতে ফেলে পাহাড়ের গহিন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।

বিজিবি অধিনায়ক জানান, গত দেড় মাসে বিজিবি টহল দল অভিযান চালিয়ে ১৪ লাখ ৮০ হাজার বার্মিজ ইয়াবা এবং ১৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) উদ্ধার করেছে। উদ্ধার মাদকের মূল্য ১১৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা বলে জানান তিনি।

এদিকে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদক পাচার বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়। সভায় কপবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সুফিয়ান জানান, গত জানুয়ারি মাসে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে ২৬৪ কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধার হয়েছে। এ সময় বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১৭০ কোটি টাকা। পুলিশ উদ্ধার করেছে ১৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে, কোস্টগার্ড ৫০ কোটি টাকার এবং র‌্যাব প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধার করেছে।

সভায় সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সীমান্তে মাদক উদ্ধারের পরিমাণ বেড়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছে। এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিসহ সব মহলকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

কক্সবাজারের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, আত্মস্বীকৃত ইয়াবা গডফাদারদের সবাই জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছে। তাদের কেউ কেউ আবারও মাদক পাচারে সক্রিয় হয়েছে বলে খবর পাচ্ছি। তাদের ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সক্রিয় হতে হবে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কেউ জামিনে বেরিয়ে এসে ফের ইয়াবা পাচারে সক্রিয় হচ্ছে কিনা, পুলিশ খতিয়ে দেখছে। গত মাসে টেকনাফের হ্নীলা এলাকা থেকে এক ইউপি মেম্বারের ছেলে ১০ হাজার ইয়াবাসহ আটক হয়। সে আত্মসমর্পণ করে দীর্ঘদিন জেলে ছিল। সম্প্রতি জামিনে বেরিয়েছিল। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা এখন মাদক পাচারে জড়িত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।