খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ও ডিসিপ্লিনগুলোর নামকরণ বাংলায় করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল (অনুষদ) ও ডিসিপ্লিনের নামকরণ বাংলায় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এ মাসেই তা চূড়ান্ত হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি, উৎকর্ষ সাধন, বিকাশ, বহুমুখী চর্চা ও ব্যবহারে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ভিত্তিক পাঠ্যপুস্তক ও গবেষণা গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ ও প্রকাশের আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে প্রকাশক পাওয়া না গেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তা প্রকাশনায় সহায়তা করা হবে বলে উল্লেখ করেন।  

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার। সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক খান গোলাম কুদ্দুস। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালকের পক্ষে মোহাম্মদ রকিবুল হাসান সিদ্দিকী, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তরুণ কান্তি বোস, অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের সভাপতি এস এম মনিরুজ্জামান পলাশ। সভায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবনের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলনের পর উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রভাতফেরি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পৌঁছায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সেখানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। 

শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর উপ-উপাচার্য আইন ডিসিপ্লিন কর্তৃক প্রকাশিত একুশের স্মরণিকা দেয়াল ‘ভাঙার গান’- এর পঞ্চম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় আইন আইন ডিসিপ্লিন প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ ওয়ালিউল হাসানাত এবং ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। 

পরে সোমবার সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল বাদ যোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রদীপ প্রজ্বালন।