নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘আমি ওদের (দলিত) ওখানে বসে চাও খাই। বানানো জিনিসও ওদের ঘরে বসে খাই। আমার মনে হয় না বাংলাদেশের মধ্যে কেউ গিয়ে ওদের সাথে এইভাবে আন্তরিকভাবে মিশে ওদের ঘরে বসে ওদের বানোনো চা খাবে।’ 

তিনি বলেন, ‘আমি শুধু জাত বৈষম্য দূর করার জন্য এইটা করি। কারণ আমি জাত-পাত এত হিসাব করি না। নিচু জাতের খাবার খাবো না এই রকম মানসিকতাই আমার নাই। ওদের গলিগুলো হয়তো পরিষ্কার না, কিন্তু প্রত্যেকের ঘর একদম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সাজানো-গোছানো।’

মঙ্গলবার সকালে শহরের ডিআইটি এলাকায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে ‘দলিত নারী সম্মিলন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলিত সম্প্রদায়ের বসবাসের জায়গা নিশ্চিত করার জন্য টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ১০০ কোটি টাকা পেয়েছে। যা দিয়ে আমরা ১০ তলা বিশিষ্ট ছয়টি ভবন করছি।’

দলিত সম্প্রদায়ের লোকজনের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘তারা যে সিটি করপোরেশনের কর্মচারী বা তাদের যে কাজ করতে হবে সে মানসিকতা আমি এখন পর্যন্ত গড়ে তুলতে পারিনি। কাজ করছে কিন্তু কাজের মধ্যে যেন কোথাও একটা ফাঁকিবাজি। লেখাপড়ার জন্য উৎসাহিত করতে আমি যতবার গিয়েছি, সেই ২০০৩ থেকে আমার প্রধান শর্তই ছিল বাচ্চাদের স্কুলে দিতে হবে। ওইখানে একটা সরকারি স্কুল আছে। মিড ডে খাবারটা আমরা দিচ্ছি। আমি বাধ্য করেও পারি নাই তাদের বাচ্চাদের স্কুলে দিতে।’

তিনি আরও বলেন, এখন বাসাবাড়ি দিচ্ছি, কোয়ার্টার দিচ্ছি, সব কিছুর সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি। কোনো জনগোষ্ঠী পিছিয়ে থাকুক এটা এই সরকার চাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী ক্ষমতায়নের জন্য যেভাবে চেষ্টা করছেন আমার জানা মতে, দেখা মতে, আমি এইরকম জননায়ক, রাষ্ট্রনায়ক দেখি নাই। যিনি নারীদের এত সুযোগ-সুবিধা দিতে চাচ্ছে।’

আইভী বলেন, ‘মনটাকে আগে ঠিক করতে হবে। এই সমাজ থেকে উঠে সরকারি চাকরি করতে হবে, ভালো জায়গায় যেতে হবে। এই মানসিকতা মনে জাগাতে হবে। আমি আপনাদের পাশে আছি। আমি, আমার সরকারে পাশে থেকে কাজ করতে চাই। আমরা একটি স্কুল তৈরি করতেছি। সেখানে তাদের জন্য কোটা রাখা হবে। বৃত্তি দিবো, ফ্রি পড়াবো। কোনো বৈষম্য থাকবে না সেখানে। ওরা যে হাতের কাজ করে সেটার জন্য যদি কোনো শোরুম বা কোনো দোকান চায় আমি ব্যবস্থা করবো।’

এ সময় দলিত সম্প্রদায়ের শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিশেষ নজর রাখার অনুরোধ জানান স্থানীয় কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাসকে। 

সিটি মেয়র বলেন, ‘তাদের মধ্যে এই মানসিকতা তৈরি করতে হবে যে আমি সমাজের কোনো বাধা মানবো না। আমি ওই বাধা অতিক্রম করতে পারবো। এই শক্তিশালী মনোভাব যেন গড়ে ওঠে।’