বিকট শব্দে ছয়তলা ভবনের নিচতলায় মকবুল হোসেনের বাসায় আগুন লাগে। মুহূর্তেই পুরো নিচতলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্য বাসার সদস্যরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরতে পারলেও আটকা পড়েন দুই শিশুসন্তানসহ মকবুল ও তার স্ত্রী রেখা আক্তার। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে মকবুল, তার স্ত্রী এবং তাদের বড় ছেলে জয়কে (৯) গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও ওই দম্পতির আরেক ছেলে মো. জুবায়েরকে (৬) সে সময় উদ্ধার করা যায়নি। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভানোর পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে ততক্ষণে পুড়ে মারা যায় শিশুটি। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বিকেলে মারা যান মকবুল হোসেন। তার স্ত্রী ও বড় ছেলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বাজার এলাকার ওই বাসায় গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভবনটির মালিক আলাই মোল্যা। উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মকবুল হোসেন পরিবার নিয়ে ওই বাসায় ভাড়া থাকেন। তবে আগুন কীভাবে লাগল, তা নিয়ে নানা তথ্য পাওয়া গেছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ম্ফোরণ কিংবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
দগ্ধ মা-ছেলে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার আগে তাদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। স্বজনরা জানান, তাদের প্রত্যেকের শরীরের ৪০ থেকে ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে।
স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিকট শব্দে আলাই মোল্যার ভবনটি কেঁপে উঠলে ভয়ে এই ভবনসহ আশপাশের ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করেন। এ সময় মকবুলের বাসা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা যায়। একপর্যায়ে জ্বলে ওঠে আগুন। এতে মকবুলের বাসাসহ নিচতলার তিনটি বাসাই পুড়ে যায়। অনেকে ভবনের বাইরে গিয়ে, অনেকে আবার ছাদে গিয়ে প্রাণ বাঁচান।
মকবুল হোসেনের খালাতো ভাই মসিউর রহমান ও ভাতিজা শিক্ষক মমিনুল হক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, মকবুলের শরীরের ৬২ ভাগ, ছেলের ৬০ ভাগ ও স্ত্রী রেখা বেগমের শরীরের ৪০ ভাগ পুড়ে যায়। রেখার শরীর কিছুটা কম পুড়লেও অন্তঃসত্ত্বা থাকায় অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট কিংবা ফ্রিজ বিস্ম্ফোরণ থেকে আগুন লাগতে পারে। তবে ঘটনাটি আরও তদন্ত করে রহস্য উন্মোচন করা যাবে।
তবে স্থানীয় বেশ ক'জনসহ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক সেলিম পারভেজ বলেন, শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগলে এত বিকট শব্দ হতো না। বিকট শব্দ হওয়া থেকে ধারণা করা যায়, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ম্ফোরণে এ ঘটনা ঘটেছে।
বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কর্তৃপক্ষের স্থানীয় অফিসের ইনচার্জ উপসহকারী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ বলেন, ঘটনার পর আমরা আমাদের গ্যাসের লাইন পরিদর্শন করি। গ্যাসের সংযোগ থেকে আগুন লাগার কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি।
আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী জাফর আহমেদ বলেন, শর্টসার্কিট হলে এত বিকট শব্দ হওয়ার কথা নয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে তিনি জেনেছেন, ওই বাসায় লাইনের গ্যাসের পাশাপাশি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো। লাইনে গ্যাস সরবরাহ কম পেলে সিলিন্ডারটি ব্যবহার করা হতো। ফলে সিলিন্ডার বিস্ম্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার এসআই ধর্মজিৎ সিংহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে। নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। স্বজনরা ময়নাতদন্ত করাতে আগ্রহী না হওয়ায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।