চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মরদেহের ময়নাতদন্তকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। স্বজন ও সতীর্থরা নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ২ পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ১৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়েছে। 

পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ বলেন, তাদের গাড়িতে এক বোতল হুইসকি পাওয়া গেছে। আবার তাদের শরীরে কোন আঘাতের তেমন কোন চিহ্নও ছিল না। এ জন্য আমাদের মাঝে একটু সন্দেহ দেখা দিয়েছে। একই গাড়িতে ৫ জন লোক ছিল। অথচ কেউই দরজা খুলে বের হতে পারলো না। এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না- এ কারণেই আমরা পোস্টমর্টেমে পাঠিয়েছি। ভিসেরা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে মৃত্যুও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ হস্তান্তরের কোন অনুমতি দেননি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও। এ অবস্থায় পোস্টমর্টেম ছাড়া লাশ হস্তান্তর করার সুযোগ আমাদের নেই।


তিনি জানান, লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য চিতোষী বাজার এলাকায় নিহতদের শোকাহত স্বজনরা আসে। সেখানে তারা পুলিশের উপর চড়াও হয়। গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শর্টগানের গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনায় মনোহরগঞ্জের তিনজনের মরদেহ ময়না তদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করতে প্রশাসনের কাছে যান স্বজনরা। তবে এতে তারা ব্যর্থ হন। পরে বিকেলে উঘারিয়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে নিহতদের মরদেহ শাহরাস্তি থানায় নেওয়ার পথে নিহতদের স্বজনরা বাধা দেন। একপর্যায়ে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে মরদেহ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। প্রায় আধাঘণ্টা সংঘর্ষের পর পুলিশ তিনজনের মরদেহ নিয়ে থানায় চলে আসে। এ সময় পুলিশসহ অনেকে আহত হয়।

এর আগে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা জানায়, রাত পৌনে ১টার দিকে কুমিল্লা থেকে মনোহরগঞ্জ যাওয়ার পথে ঘটনাস্থলে একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ ৪৩-৩৭২১) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পূর্ব নরহ গ্রামের মোল্লার টেকে (বাঁক) পুকুরে পড়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। 

নিহতরা হলেন-কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের রামদেবপুর গ্রামের ইউপি সদস্য সিদ্দিকুর রহমান খোকনের ছেলে শাহপরান তুষার (২২), একই এলাকার নরপাইয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে শাকিল (২৩), চাঁপা কেশতলা গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে রেজাউল করিম (২৩), যশোরের শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে নয়ন (২৪) ও গাড়ি চালক গাজীপুর সদর উপজেলার উত্তর খাইলকুর গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন (২৪)।

 শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোরশেদুল আলম ভুঁইয়া বলেন, বেপরোয়া গতি আর বাঁকের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। যারা মারা গেছে তাদের একজনের বাবা আমাদের জানিয়েছেন, কুমিল্লায় তাদের এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা।