গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক ছাত্রী (২২) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে রাতে থানা ঘেরাও এবং সকাল থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ঘোনাপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান করে অবরোধ ঘোষণা করেন। এ নিউজ লেখা পর্যন্ত (দুপুর ২টা ৩০মিনিট ) শিক্ষার্থীরা অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ সময় অবরোধের ফলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পারের অপেক্ষায় রয়েছে শত শত যানবাহন।

এর আগে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের আটকের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে গিয়ে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ সদর থানা ঘেরাও করে রাখেন। এছাড়া এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ভবন তালাবদ্ধ করে রেখেছেন।

অবরোধকারী শিক্ষার্থী লোকপ্রশাসন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র নজরুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র গোলাম রসুল বলেন, ধর্ষকদের দ্রুত আটক করে তাদের পরিচয় প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ এলাকাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেখানে অবস্থান করে সে সমস্ত জায়গাতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিরাপত্তা বলয় তৈরিসহ চারদফা দাবি জানিয়েছি। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।

ওই শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী তার বন্ধুর সঙ্গে গোপালগঞ্জ সদরের নবীনবাগ হেলিপ্যাডের সামনে থেকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ৫ থেকে ৭ জন বখাটে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে এসে ওই ছাত্রীসহ তার বন্ধুকে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণাধীন ভবনে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে বন্ধুকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। তখন ওই ছাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী বন্ধুদের মেসে গিয়ে সব ঘটনা জানায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রীকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ  পিয়াস সিকদার (২২), অন্তর (২১) ও জীবনকে (২০) আটক করেছে। এদের মধ্যে অন্তর ও জীবন নামে দু’জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে আটকের ঘটনায় শহরের অন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নবীনবাগে রাস্তার ওপর আবর্জনা ফেলে অবরোধ করেছেন।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ অ্যান্ড অপারেশন) নিহাদ আদনান তাহিয়ান বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়েছে। আমাদের টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩ জনকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত জড়িত সকলকে আটক করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান বলেন, এ খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি এবং আমি নিজে এ ঘটনায় বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছি।