আইপিএল-বিপিএলসহ বিভিন্ন ক্রিকেট ম্যাচে বাজিতে হেরে যাওয়ায় দেনা পরিশোধ করতে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী অমর সরকারকে (৩৫) গলা কেটে হত্যা করে তারই দোকানের দুই কর্মচারী। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ।

ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য স্বীকার করেছেন ভিকটিমের দোকান কর্মচারী জয় বিশ্বাস প্রকাশ অনিক (২২) ও হৃদয় সূত্রধর (২৩)। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে একটি বালুর স্তূপ থেকে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার, হত্যাকাণ্ডের সময় হাতে পরা গ্লাভস পাবলিক টয়লেট থেকে এবং ছুরিটি উদ্ধার হয় পাশের একটি পুকুর থেকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করায় আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, গত ২১ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণ ব্যবসায়ী অমর সরকার বাড়িতে ফেরার পথে খুন হন। এ ঘটনার পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে। যেহেতু তিনি প্রতিদিনই স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা বাসায় নিয়ে যেতেন সেই সূত্র ধরেই আমরা তদন্ত শুরু করি। পরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রথমে দোকান কর্মচারী অনিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি এবং তার বন্ধু হৃদয় সূত্রধর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তারা আমাদের জানিয়েছে, ওই ব্যবসায়ী দোকান থেকে ফেরার পথে বাড়ির দুইশ গজ দূরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন তারা। এরপর তার মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য বাম হাতের রগ কেটে দেন। এর দুই ঘন্টা পর কর্মচারী অনিক নিহতের বাসায় গিয়ে খবর দেন পথিমধ্যে দুস্কৃতিকারীরা অমল সরকারকে মেরে ফেলে রেখেছে।

এ হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, অনিক এবং হৃদয় দু’জন বন্ধু। এক সময় হৃদয়ও অমর সরকারের দোকানের কর্মচারী ছিল। তারা আইপিএল, বিপিএলসহ বিভিন্ন ম্যাচে বাজি ধরতো। এতে করে তারা প্রায় আড়াই লাখ টাকা দেনা হয়ে গিয়েছিল। এই দেনা শোধ করার জন্য তারা পরিকল্পনা করে। যেহেতু তারা জানতো দোকানের মালিক প্রতিদিন রাতে স্বর্ণালংকার এবং টাকা নিয়ে বাড়িতে যান এ কারণে সেসব লুট করার পরিকল্পনা করেন। তার জানতো এসব বিক্রি করলে কয়েক লাখ টাকা পাওয়া যাবে- এ কারণে তারা প্রায় এক মাস আগে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, অমর সরকার খুন হওয়ার দিন দোকান শেষ করে তিনি তার এক আত্মীয়ের বাসায় গেলে ফিরতে কিছুটা দেরি হয়। এ সুযোগটিকেই বেছে নেয় তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী অনিক তার মালিককে নিয়ে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে হৃদয় যুক্ত হয়। প্রথমে হৃদয় অমর সরকারের গলায় ছুরিকাঘাত করে। পরে তারা দু’জন মিলে তাকে জাপটে ধরে হাতের রগ কাটে এবং গলায় আরও দু’টি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) সুদীপ্ত রায়, মতলব সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাত, মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মফিজুল ইসলাম খান এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান প্রমুখ।  

 এর আগে গত মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় নারায়ণপুর বাজারের পাশে বাড়িতে যাওয়ার পথে খুন হন স্বর্ণ ব্যবসায়ী অমর সরকার।