নড়াইলে সার কিনতে গিয়ে ডিলারের ম্যানেজার কর্তৃক মারধরের শিকার হয়েছেন এক কৃষক। এ ঘটনার বিচার এবং ওই ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জেলা কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগ ও স্থানী কৃষকরা। এসময় পার্শ্ববর্তী কয়েকটি কৃষকরাও কাস্তে হাতে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নড়াইল জজ আদালত চত্বরে জেলা কৃষকলীগের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন নেতৃবৃন্দ।

মানববন্ধন চলাকালে জেলা কৃষকলীগের সভাপতি মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শামিম আতিক মহিদ, সহ-সভাপতি সায়েদ আলী শান্ত, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামরুজ্জামান কামাল, জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রকিবুজ্জামান পলাশ, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈম ভূইয়া, উপজেলা  ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সিদ্ধার্থ সিংহ পল্টু প্রমুখ।

মানববন্ধনে অভিযুক্ত নড়াইল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও  সার ব্যবসায়ী মো.হাসানুজ্জামানের লাইসেন্স বাতিলের সাত দিনের আলটিমেটাম দেন বক্তারা।

ভুক্তভোগী ও সদর উপজেলার উজিরপুর গ্রামের কৃষক আলী মোহাম্মদ জানান, গত ১৬ ফ্রেব্রুয়ারি শহরের রূপগঞ্জ বাজারের সার ব্যবসায়ী হাসানুজ্জমানের দোকানে যান তিনি। এসময় ম্যানেজার হিরামন বিশ্বাসের কাছে এক বস্তা পটাশ সার চাইলে পটাশের সাথে ডিএপি (ঢ্যাপ) সারও নিতে বলেন তিনিঢ্যাপ না নিলে ৭৫০ টাকার পটাশ ৯৫০ টাকায় কিনতে হবে বলে জানান ম্যানেজার হিরামন।

এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ম্যানেজার তাকে গলা ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক। দোকানের ৩০০ গজ দুরত্বে অবস্থিত ডিলার হাসানুজ্জমানের চেম্বারে নিয়ে গিয়ে হাসানুজ্জামানের সামনেই তাকে চড়-থাপ্পড় ও ঘুষি মারে ওই ব্যবসায়ীর ম্যানেজার।

এ ব্যাপারে সার ডিলার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ম্যানেজার হিরামন বিশ্বাসকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কখনও ইউরিয়া আবার কখনও নন ইউরিয়া সারের কৃত্রিম সংকট চলছে। এ নিয়ে গত বছরের আগস্টে দৈনিক সমকালে ‘সার সংকটে চাষ নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।