দেশে প্রায়ই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। কিন্তু সেসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার হয় না। অধিকাংশ সময়ই তারা পার পেয়ে যায়। এছাড়াও শ্রমিকরা বিভিন্ন কারখানায় কাজ করার সময় মালিকের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। কিন্তু দায়ীদের কোনো বিচার হয় না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই দেশে অপরাধ বাড়ছে।

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা এবং আশুলিয়ার জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আবেদীন, গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী উমর ফারুক ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, বশেমুরবিপ্রবির এক শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এবং তার সহপাঠীকে মারধর করা হয়। একটা সভ্য রাষ্ট্রে এ ঘটনা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এছাড়াও রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশন এবং সেজান জুসের কারখানার ঘটনা উল্লেখ করে তারা আশুলিয়ার জুতা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

পাশাপাশি এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবি করে তারা বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে এবং অপরাধী যেই হোক তাদের বিচার করতে হবে।

এদিকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শাবি শাখার নেতাকর্মীরা বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনা এবং আশুলিয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে ধর্ষণকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এছাড়াও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যাদের দায়িত্বে অবহেলায় শ্রমিকদের প্রাণ গেছে তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।