শিবির, ছাত্রদল কর্মী, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের নিয়ে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সভাপতি করা হয়েছে সাকিবুল ইসলাম রানাকে আর সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জাকির হোসেন অমি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির ঘোষণা করা হয়। 

২০১৪ সালে রাজশাহী কলেজের হোস্টেল থেকে নাশকতার অভিযোগে শিবিরকর্মী সাকিবুল ইসলাম রানাকে বের করে দেন তৎকালীন কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি রকি কুমার ঘোষ। নগরীর দরগাপাড়ায় সাইকেল চুরির অভিযোগেও আটক হয়েছিলেন তিনি। সেই সাকিবুল ইসলাম রানা এবার হলেন রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। তার মতোই বিতর্কিত কয়েকজনকে নিয়ে ৩০ সদস্যর কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কমিটি ঘোষণার পর রাজশাহী কলেজ ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষ বলেন, ‘রানার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল বলেই কলেজ হোস্টেল থেকে বের করে দিয়েছিলাম। তিনি এখন জেলা কমিটির সভাপতি! এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ২৭তম বিডিএস ব্যাচের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন অমি। কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অমি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিবাহিত। বাড়ি ভাড়া নিয়ে নগরীর তেরোখাদিয়ায় স্ত্রীসহ থাকতেন। 

অমির বিরুদ্ধে অভিযোগ, মিনহাজুল আবেদিন নামে এক যুবককে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তিনি ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেন। পরে চাকরি দিতে পারেননি, টাকাও ফেরত দেননি।  সে অভিযোগও কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন ছাত্রলীগের অন্য নেতা-কর্মীরা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেন অমি বলেন, ‘এর কোনো ভিত্তি নেই। প্রতিপক্ষ আমাকে দুর্বল করতে না পেরে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।’

ঘোষিত কমিটিতে এক নম্বর সহ-সভাপতি হলেন রাসেল আহমেদ। তিনি বাঘা উপজেলার বিএনপি পরিবারের সন্তান বলে জানা গেছে।

কমিটিতে এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন পুঠিয়ার হাসিবুল হাসান শান্ত। তিনি গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে ভোটের মাঠে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তিনি নওগাঁয় বিয়ে করেছেন, তার বিয়ে রেজিস্ট্রির কাগজ ও ছাত্রদল করার দলিলপত্র কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে পাঠিয়েছে জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ।

এছাড়া নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজালুর রহমান রাজীবের বাবা মনিগ্রাম ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বলে জানা গেছে।

রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজ সমকালকে বলেন, ‘কমিটিতে যারা এসেছেন তাদের অনেকেই বিতর্কিত। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অপরিচিত মুখ। নতুন সাধারণ সম্পাদক অমি কখনই ছাত্রলীগ করেনি। ছাত্রলীগের কোনো পদেও ছিলেন না।’

এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতারা সিভি যাচাইবাচাই করেই কমিটি দিয়েছেন। রাজশাহী জেলায় শতভাগ বিতর্কমুক্ত কমিটি হয়েছে। যেসব অভিযোগ রয়েছে, তা সত্য নয়।’

২০১৪ সালের ৭ মে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান এবং মেরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিন পর ওই কমিটি গত বছরের ১৬ জুলাই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এর আট মাস পর নতুন করে ৩০ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হলো।