ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বাজার এলাকার ভাড়া বাসায় মঙ্গলবার রাতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ভাড়াটিয়া মকবুল হোসেন ও তার ছয় বছরের ছেলে মো. জুবায়ের।

জুবায়ের ঘটনাস্থলে এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে মারা যান মকবুল। ওই অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর দগ্ধ হন মকবুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেখা বেগম ও আরেক ছেলে জয় (৯)। বুধবার রাতে ঢামেক বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত কন্যাসন্তানের জন্ম দেন রেখা।

বৃহস্পতিবার সকালে আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মকবুল, তার ছেলে জুবায়ের ও অপরিপকস্ফ ওই নবজাতকের লাশ দাফন করা হয়। রেখা ও জয় বর্তমানে ঢামেক বার্ন ইউনিটে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

এদিকে, দু'দিন পার হলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মকবুল হোসেন পরিবার নিয়ে ওই ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। ভবনটির মালিক আলাই মোল্যা। ওই অগ্নিকাণ্ডে মো. জামিয়ার রহমান নামের এক এনজিওকর্মীও দগ্ধ হন।

নিহত মকবুলের ভাতিজা শিক্ষক মমিনুল হক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, মকবুলের শরীরের ৬২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। বড় ছেলে জয়ের শরীরের ৬০ ভাগ ও স্ত্রী রেখা বেগমের শরীরের ৪০ ভাগ পুড়ে গেছে। তারা দু'জন বর্তমানে ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এদিকে জামিয়ার রহমানের সহকর্মীরা জানান, জামিয়ার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। তার শরীরের ২০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে।

আশুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেও অগ্নিকাণ্ডের সুস্পষ্ট কারণ জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে টিভির পিকচার টিউব ফেটে শব্দ হতে পারে। কারণ, টিভি যে কক্ষে ছিল, তা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রান্নাঘরের চুলা ও ফ্রিজ অক্ষত পাওয়া গেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের আগে বিকট শব্দের উৎস নিয়ে তিনিও কিছুটা সন্দিহান।