প্রেমে ধোঁকা খেয়ে অভিমানে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছিল সুমি আক্তার (১৩)। তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসক ফেরত দিলে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। ৩৩ দিনের দুঃসহ যন্ত্রণা সয়ে অবশেষে মারাই গেল সে।

বৃহস্পতিবার নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। সুমি বরিশালের বাবুগঞ্জের জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের জাহাপুর গ্রামের শিউলি বেগমের মেয়ে। জাহাপুর মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো সে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

একই ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক গ্রামের মৃত মোবারক ফকিরের স্ত্রী রাজিয়া মনির সঙ্গে শিউলির বান্ধবীর সম্পর্ক। এ সুবাদে উভয়ের বাড়িতে যাতায়াত ছিল সুমি ও মোবারকের ছেলে রাকিব ফকিরের। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রাকিবের স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও তিনি ওই কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে সুমিকে সংশোধনের চেষ্টা করেন তার মা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২১ জানুয়ারি সুমিকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন রাকিব। এ সময় বিয়ে করার শর্ত হিসেবে সুমির কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন রাকিব। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শরীরে আগুন দেয় সুমি।

সুমির মা শিউলি বলেন, রাকিবের স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও সুমিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। পরে অভিমানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সুমি। তার শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তালাক একমাত্র মেয়েকে নিয়ে জাহাপুরে বাবার বাড়িতে থাকতেন শিউলি। তিনি গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। তার মেয়েকে বিয়ে করার জন্য এক লাখ টাকা না পেয়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় রাকিব। এতে অকালেই ঝরে যায় ওই কিশোরীর প্রাণ।