রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ডাইনিংয়ের খাবারে কটনবাড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হলের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার হলগেটে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। তবে কটনবাড নয়, অবৈধ ছাত্রদের হল থেকে নামিয়ে বৈধ শিক্ষার্থীদের ওঠানোর জেরেই এ আন্দোলন বলে জানা গেছে। এ আন্দোলনে হল ছাত্রলীগের নেতারা ইন্ধন দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জিয়া হলের ডাইনিংয়ে খেতে গিয়ে খাবারে কটনবাড পান এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনার পর হলগেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ করেন হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। যদিও আন্দোলনের শুরু থেকে হল ছাত্রলীগের কর্মীরা নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আন্দোলনে হল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সরাসরি অংশ নেন।

হল সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ জিয়াউর রহমান হলে নতুনভাবে সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হয়। অনেক শিক্ষার্থী সিট বরাদ্দ পেয়েও হলে উঠতে পারছিলেন না। বৈধ সিটপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিটে অবৈধভাবে অনেকে দখল নিয়ে ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ছাত্রলীগের মাধ্যমে হলে উঠেছিলেন। সম্প্রতি হল প্রাধ্যক্ষ ড. সুজন সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাবুল হককে সঙ্গে নিয়ে হলে অভিযান চালান। অভিযানে বেশ কয়েকজনকে হল থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং বৈধ কয়েকজনকে হলে তুলে দেওয়া হয়। ছাত্রলীগের তুলে দেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীকেও হল থেকে নামিয়ে দেন প্রাধ্যক্ষ। এতে হল ছাত্রলীগ নেতারা প্রাধ্যক্ষের ওপর ক্ষুব্ধ হন।

আন্দোলনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বৈঠক করেও কোনো সমাধানে আসতে পারেননি। শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর পক্ষ নিয়ে আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। অল্প সময়ের মধ্যে হলের খাবারের মান উন্নয়ন, রাউটারের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া হলের আবাসিক ছাত্রদের তালিকা নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছিল। সর্বিক বিষয়ে আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাঙ্গে সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে হল প্রাধ্যক্ষ ড. সুজন সেনকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।