কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমার নদীবিধৌত রাজারহাট, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার আড়াই শতাধিক দ্বীপচরের মানুষকে নিয়ে আসা হয়েছে গণটিকার আওতায়।

কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার উলিপুর উপজেলার ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদী বেষ্টিত বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে ইসলামপুর কমিউনিটি ক্লিনিক, আক্কেল মামুদ কমিউনিটি ক্লিনিক ও মশালেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ব্রহ্মপুত্রবেষ্টিত সাহেবের আলগা দ্বীপচরের ইউনিয়নের জাহাজের আলগা কমিউনিটি ক্লিনিক, চর ঘুঘুমারী কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন পরিষদে অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করে করোনা প্রতিরোধে গণটিকা দেওয়া হয়েছে।

বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্তব্যরত সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক শহীদুল আলম জানান, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুর্গম চরগুলো থেকে এসে টিকা নিয়েছেন।  শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩০০ জন নারী-পুরুষ এই কেন্দ্র টিকা নিয়েছেন।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দ্বীপচর ভগবতীপুরে স্থাপিত কমিউনিটি ক্লিনিক কেন্দ্র বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময়ে পোড়ারচর, ঝুনকারচর, মাঝিয়ালী, শিবেরবাতি, চর যাত্রাপুর ও চর পার্বতীপুরের ১৫৪ জন নারী-পুরুষ টিকা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার রাশেদুল ইসলাম। 

অপরদিকে যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হোসেন আলী জানান, ঝুনকারচর কমিউনিটি ক্লিনিকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সময়ে ৪৮০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মনজুর এ মুর্শেদ  জানিয়েছেন, জেলার স্থায়ী কেন্দ্র ছাড়াও ২৩৪টি অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে ৯ উপজেলায় গণটিকা প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার চরাঞ্চলসহ জেলায় মোট কতজনকে গণটিকার আওতায় সিনোভ্যাক ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কুড়িগ্রামে এর আগে ১৪ লাখ ৮৪ হাজার ৪১ জনকে প্রথম ডোজ, ৯ লাখ ১১ হাজার ৫৩০ জনকে দ্বিতীয় ডোজ এবং ২৫ হাজার ৭১২ জনকে বুস্টার ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে।