রাজারহাট-কুড়িগ্রাম রুটে রমনা লোকাল ট্রেনটি দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর কমিউটার ট্রেন নামে একটি নতুন ট্রেন চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। 

মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় রমনাবাজার রেলওয়ে স্টেশন থেকে রমনা কমিউটার নামের ট্রেনটি রংপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের সহকারী ট্রাফিক সুপারিটেনডেন্ট আবু তাহের। 

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২০২০ সাল ৮ মার্চ থেকে এই সেকশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিস্তা জংশন থেকে রমনা বাজার পর্যন্ত ৫৭ কিলোমিটার রেলপথে ৮ টি স্টেশন রয়েছে। স্টেশনগুলো হচ্ছে সিঙ্গারডাবরি, রাজারহাট, টোগরাইহাট, কুড়িগ্রাম, পাঁচপীর, উলিপুর, বালাবাড়ী ও রমনাবাজার।

আগে প্রতিদিন যাত্রীবাহী ৪২২ ডাউন ট্রেনটি সকালে পার্বতীপুর জংশন থেকে ছেড়ে কুড়িগ্রাম হয়ে রমনা বাজার যেতো। আবার এই ট্রেনটি ৪১৫ আপ হয়ে রমনা বাজার থেকে ছেড়ে কুড়িগ্রাম হয়ে তিস্তা যেতো। সেখান থেকে দুপুরে ৪১৬ ডাউন হয়ে তিস্তা থেকে রমনা বাজার যেতো। এরপর বিকেলের দিকে ৪২১ আপ হয়ে ট্রেনটি রমনা বাজার থেকে কুড়িগ্রাম হয়ে পার্বতীপুর জংশন চলে যেতো। বিগত দুই বছর থেকে ট্রেনগুলোর চলাচল বন্ধ আছে।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার থেকে কমিউটার ট্রেন নামে রেল যোগাযোগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও আগের রমনা লোকাল ট্রেনটি সহসাই চালু হচ্ছে না বলে জানা গেছে। 

রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন চালু হওয়া কমিউটার ট্রেনটি বিকালে লালমনিরহাট থেকে কাউনিয়া ও কুড়িগ্রাম হয়ে রমনাবাজার এবং সকালে রমনাবাজার থেকে কুড়িগ্রাম, কাউনিয়া এবং রংপুর হয়ে লালমনিহাট পর্যন্ত যাতায়াত করবে। 

মূলত রংপুর এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনের সংযোগকারী শাটল ট্রেনটি কমিউটার নামে নিয়ে যাতায়াত করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এটি প্রতিদিন রাত ৯ টায় কাউনিয়া স্টেশন থেকে রমনাবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং রাত সাড়ে ১১টায় রমনাবাজার পৌঁছে সেখানে রাতে অবস্থান করবে। পরের দিন সকাল ৮ টায় এটি আবার রমনাবাজার স্টেশন থেকে ছেড়ে কুড়িগ্রাম ও রংপুর হয়ে লালমনিরহাট যাবে। 

জেলা রেল-নৌ-যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, মূলতঃ রংপুর এক্সপ্রেসের সংযোগকারী শাটল ট্রেনটিকে কমিউটার ট্রেন নামে চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর ট্রেনটি যে শিডিউলে চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাতে যাত্রীর অভাবে লোকসান হবে। 

এজন্য আশঙ্কা হচ্ছে, কয়েকদিন পর লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে  ট্রেনটির চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। কারণ সকালে যে সময় ট্রেনটি কুড়িগ্রাম ছেড়ে যাবে তার কিছু সময় আগে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে যাবে। যাত্রীরা রংপুর পর্যন্ত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে যেতে পারবেন। এতে স্বাভাবিকভাবে কমিউটার ট্রেনের যাত্রী থাকবে না। 

এজন্য যাত্রীদের সুবিধা বিবেচনা করে কমিউটার ট্রেনটির চলাচলের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।