চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে ডোমের সংকটে ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে লাশ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে মারা যাওয়া ব্যক্তির স্বজনদের। মর্গে স্থায়ী কোনো লোক দায়িত্বে না থাকায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সোমবার অস্থায়ীভাবে দায়িত্বে থাকা একমাত্র ডোম কাজে যোগ দিলে সমস্যার সমাধান হয়। এদিকে, ডোমসংকট সমাধানে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, চমেক মর্গে খণ্ডকালীন হিসেবে কেবল ডোম আছেন কদম আলী নামে একজন। তার সঙ্গে দৈনিক মজুরিভিত্তিতে রয়েছে আরেকজন। কিন্তু কাটাছেঁড়ার সব কাজই করতে হয় কদম আলীকেই। গত রোববার কদম আলী কাজে যোগ না দেওয়ায় মধ্যরাতের মধ্যে অন্তত ৯টি লাশ জমে যায়। এমন অবস্থায় লাশ নিয়ে বিপাকে পড়েন নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা।

ডোম না থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাশগুলোর ময়নাতদন্ত হয়নি। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। পরে ডোম কদম আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সোমবার কাজে যোগ দেন কদম আলী।

যদিও রোববার রাতের ৯টিসহ সোমবার বিকেল পর্যন্ত আরও ৭টি লাশ যোগ হয় মর্গে। তবে কাজে যোগ দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে একে একে সবকটি লাশের যাবতীয় কাজ শেষ করেন কদম আলী। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মর্গে আর কোনো লাশ ছিল না। বেওয়ারিশ একটি লাশ থাকলেও দাফন কাজে নিয়োজিত সংগঠন আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান সমকালকে বলেন, ‘মর্গে অস্থায়ীভাবে দায়িত্বে থাকা ডোম রোববার না থাকায় লাশ কাটা নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছিল। তবে সেটির সমাধান করা হয়েছে। ডোম কাজে যোগ দিয়ে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় থাকা সকল লাশের যাবতীয় কাজ শেষ করেন ডোম। আসলে মর্গের যাবতীয় কাজ দেখভালের দায়িত্ব চমেক কর্তৃপক্ষের। এ ব্যাপারে আমি অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করেছি। সমস্যার সমাধানে নানা উদ্যোগ নিতে কাজ চলছে।’

চমেকের অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আক্তার জানিয়েছেন, আপাতত সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। আগামীতে যাতে এমন সমস্যা না হয় সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ডোম কদম আলী সমকালকে বলেন, ‘মর্গের কাজ অনেক কঠিন। কাটাছেঁড়ার সব কাজই আমাকেই করতে হয়। কিন্তু এত কষ্টের বিনিময়ে আমাকে নামমাত্র টাকা দেওয়া হয়। আমিও তো একজন মানুষ। নিজের ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক সমস্যা থাকতে পারে। একদিন কাজে আসতে না পারায় লাশ জমে গেছে। কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে সুযোগ-সুবিধা ও জনবল বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। কাজে যোগ দিয়েই সবকটি লাশের কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করেছি।’

ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সুমন মৎসুদ্দী জানান, গত রোববার মর্গে ডোম না থাকায় স্বজনদের বিপাকে পড়তে হয়। তবে কাজে যোগ দিয়ে সোমবার দুপুরের মধ্যে সব লাশই ময়নাতদন্ত করে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

কয়েকজন স্বজন বলেন, ডোম না থাকায় নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বুঝে পেয়েছি। এতে চরম ভোগান্তি ও বিপাকে পড়তে হয়েছে অনেককে। এমন ভোগান্তি কাম্য নয়।