কুড়িগ্রামে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পর এবার দণ্ড মওকুফ করা হলো সেই আরডিসি নাজিম উদ্দীনের। গত সোমবার তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কে এম আলী আজম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। 

এর আগে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে নাজিম উদ্দিনকে এক ধাপ পদাবনতি দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। প্রেসিডেন্টের কাছে দণ্ড মওকুফের আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন। এর প্রেক্ষিতে নাজিম উদ্দিনের দণ্ড বাতিল করে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২০২০ সালের ১৫ই মার্চ একই অনলাইন নিউজপোর্টাল এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে তাকে ধরে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়। তার বাড়িতে আধা বোতল মদ এবং গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এভাবে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে একজন সাংবাদিককে ধরে এনে সাজা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন, আরডিসি বা রেভিনিউ ডেপুটি কালেকটর নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা এবং এনডিসি বা নেজারত ডেপুটি কালেকটর এস এম রাহাতুল ইসলাম। ঘটনার তদন্তপূর্বক অভিযোগের প্রমাণ পায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। 

অসাদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সুলতানা পারভীনের দুই বছরের বেতন স্থগিত করা হয়। আরডিসি নাজিমকে এক ধাপ পদাবনতি দেয়া হয়। এনডিসি রাহাতুলের তিন বছর বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হয় এবং রিন্টু বিকাশ চাকমাকে চাকুরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ওএসডি অবস্থায় রয়েছে।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির কাছে শাস্তি মওকুফের আবেদন করেন সুলতানা পারভীন। রাষ্ট্রপতির সুপারিশক্রমে সুলতানা পারভীনের দণ্ড মওকুফ করে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সুলতানা পারভীন বর্তমানে ওএসডি আছেন। 

নাজিম উদ্দিন বর্তমানে সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন।