ওষুধ না পেয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের (চমেক) ফার্মেসি ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

হাসপাতালের কেন্দ্রীয় ওষুধাগারে ওষুধ সংরক্ষণ করা ও ওষুধ বিতরণের কাগজপত্রের মধ্যে মিলেছে অসঙ্গতিও। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদক চট্টগ্রাম-১ এর উপ-পরিচালক মো. নাজমুছ ছায়াদাতের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন। 

অভিযানে উপ-পরিচালক আবু সাঈদ, সহকারী পরিচালক এনামুল হক ও কনস্টেবল মো. ইমরান হোসেন উপস্থিত ছিলেন। 

দুদক জানায়, হাসপাতালের ফার্মেসি ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরকারি ওষুধ বিতরণের অনিয়মের তথ্য জানিয়ে ভুক্তভোগীরা দুদক হটলাইন ১০৬ নম্বরে ফোন করে জানান। তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঝটিকা অভিযানে যান দুদকের একটি টিম। অভিযানে চমেক হাসপাতালের নিচতলার ন্যায্যমূল্যের ফার্মেসিসহ আউটডোরে অবস্থিত বেশ কয়েকটি ফার্মেসির ওষুধ বিতরণ এবং চালান ও রশিদের সমস্ত কাগজপত্র ঠিকঠাকমতো রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখেন দুদক কর্মকর্তারা। 

হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দুদক কর্মকর্তারা দেখেন ওয়ার্ডে ওষুধ মজুদ করার স্টোরের কাগজপত্রগুলোর অরিজিনালের সঙ্গে কার্বন কপির মিল নেই। ওষুধ মজুদ রাখা হলেও তা সরবরাহ করা হচ্ছে না রোগীদের। ওষুধগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যেই রোগীদের বিতরণ করা হয়নি বলে ধারণা করছেন দুদক কর্মকর্তারা। 

হাসপাতালের কেন্দ্রীয় ওষুধাগারের বিভিন্ন কাগজপত্রও পরীক্ষা করে দেখেন তারা। ওষুধাগারের কাগজের সঙ্গে আউটডোরের সংরক্ষণ ও বিতরণের কাগজপত্রে বেশকিছু অসঙ্গতির প্রমাণ পান তারা।

অভিযান শেষে দুদক কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. নাজমুছ ছায়াদাত সাংবাদিকদের বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে চমেক হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ওষুধ বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওষুধের স্টোরের হিসেবের সঙ্গে ফার্মেসিতে নিয়ে আসা ওষুধের হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি মিলেছে। 

তিনি আরও বলেন,প্রতিদিন স্টোর থেকে যে পরিমাণ ওষুধ বের করা হয় তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয় না রেজিস্ট্রার খাতায়ও। হাসপাতালের কেন্দ্রীয় ওষুধালয়সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এমন অনিয়ম ও অসঙ্গতি প্রসঙ্গে কয়েকজনের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। যাবতীয় বিষয়ে আরও তদন্ত করে দেখা হবে। পরবর্তীতে সংগ্রহকৃত কাগজপত্র উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করবে দুদক। 

দীর্ঘদিন ধরে চমেক হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের ফার্মেসি ও ওয়ার্ডে বিতরণ করা ওষুধ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল ভুক্তভোগীদের। 

গত ৭ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালের সরকারি ওষুধ বাইরে পাচারের সময় দুই কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এছাড়াও দুদকের সদ্য চাকরিচ্যুত আলোচিত উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন চট্টগ্রামে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে চমেক হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধান করে তিনটি মামলার সুপারিশও করেছিলেন।