সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) থেকে ঝরে পড়ল আরও একটি প্রকল্প। এবার বাদ দেওয়া হয়েছে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে কয়লা টার্মিনাল নির্মাণ কার্যক্রম। পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কায় এটি আর বাস্তবায়ন হবে না। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এটি বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। পরে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মুস্তফা কামাল বলেন, সরকার যে বিশ্বাস ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে এ প্রকল্প নিয়েছিল তা দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না। এ ছাড়া পরিবেশগত কারণে সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নিরুৎসাহিত করছে। ফলে প্রকল্পটি পিপিপি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পায়রায় ইতোমধ্যে ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট চালু হয়েছে। সেখানে কয়লা সরবরাহ করার জন্য দুটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাবে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনুমোদন দিয়েছিল অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এদিকে গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি দুই হাজার ৮১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ১৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে কপবাজারের টেকনাফে 'সাবরাং টুরিজম পার্ক'-এর ভূমি উন্নয়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ে ও ট্যাপিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের পূর্ত কাজের ভেরিয়েশনসহ সংশোধিত চুক্তিমূল্য ৩৮০ কোটি টাকা নির্ধারণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ১০ তলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের পূর্ত কাজ, ১০২ কোটি টাকায় ৬ তলাবিশিষ্ট লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ ও ১১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ তলা বিশিষ্ট একটি স্পোর্টস কমপেল্গপ ভবন নির্মাণের পূর্ত কাজের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

টিসিবির জন্য কেনা হচ্ছে ৭০০ কোটি টাকার পণ্য :ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ১৪ হাজার টন চিনি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সিটি ও মেঘনা গ্রুপ থেকে এসব চিনি কিনতে ১১০ কোটি টাকা খরচ হবে। ৮১ কোটি টাকায় ১০ হাজার টন ছোলা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। এসব ছোলা সেনা কল্যাণ সংস্থা, ব্লু স্কাই এন্টারপ্রাইজ, রুবি ফুড প্রোডাক্টস সরবরাহ করবে। ২১১ কোটি টাকায় ১৯ হাজার ৫০০ টন মশুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এ ছাড়া ২৮৭ কোটি টাকায় এক কোটি ৭১ লাখ ১৫ হাজার ৬৫২ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে এসব তেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনা হবে।