বাবাকে কখনও দেখেনি আট বছরের উম্মে তাওরাত তুহিন। সে মায়ের গর্ভে থাকাকালে পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় তার বাবা ইব্রাহীম খলিল বাবুল (৪৫) গিয়েছিলেন লিবিয়া। কাজ করতেন দেশটির রাজধানী ত্রিপলিতে। শিগগির দেশে ফিরে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, আর দেশে ফেরা হলো না তার। গত বুধবার রাতে সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রবাসী বাবুল।

চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদমণি পশ্চিমপাড়ার মাস্টার হাকিম আলীর ছেলে ইব্রাহীম খলিল বাবুল। বৃহস্পতিবার রাতে তার স্ত্রী বুলবুল আক্তার (৩৬) খবর পান তার স্বামীকে লিবিয়ার সন্ত্রাসীরা গলাটিপে বাসায় হত্যা করেছে। এ খবর পাওয়ার পর পুরো পরিবারে নেমে আসে অমানিশার অন্ধকার।

শুক্রবার দুপুরে প্রবাসী বাবুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী বুলবুল আক্তার, তিন মেয়ে, বৃদ্ধ মা রাবেয়া বেগম ও ছোট বোনের আহাজারি। তাদের একটাই দাবি, সরকার যেন প্রবাসী ইব্রাহীম খলিল বাবুলের মরদেহ দেশের মাটিতে তার পরিবার-পরিজনকে একনজর দেখার সুযোগ করে দেয়।

বাবুলের তিন মেয়ে। বড় মেয়ে উম্মে সালমা মিশু মণি (১৮) কক্সবাজার সরকারি কলেজের সম্মান প্রথম বর্ষে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী। দ্বিতীয় মেয়ে উম্মে কুলছুম মিলি (১৭) বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজের প্রথমবর্ষের ছাত্রী। বাবাকে না দেখা ছোট মেয়ে তুহিন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী।