পথকলি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য গড়া ভ্রাম্যমাণ স্কুল। পাঁচ বছর আগে গড়ে ওঠা এই পথকলি স্কুলের পাঠদান চলে শুক্র ও সোমবার। এ দু'দিন বিকেলে নরসিংদী স্টেশন পার্কে পথশিশুদের নিয়ে বসেন পথকলির প্রতিষ্ঠাতা রাসেল। বর্তমানে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬২। পথকলির প্রথম ব্যাচের অনেক ছাত্র স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসেল বলেন, 'পথকলির অনেকেই স্থানীয় স্কুলে ভর্তি হয়ে খুব সুনাম কুড়িয়েছে। আরও কয়েকজন ভর্তির জন্য প্রস্তুত। তাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করব।'

রাসেল তার পথকলিতে পড়তে আসা শিশুদের নিয়মিত খাবারও দেন। এতে তাদের আগ্রহ থাকে বেশ। রাসেল বলেন, 'তাদের খাইয়ে আনন্দ পাই। তা ছাড়া খাবার না দিলে ক্লাসে অনিয়মিত হয়ে যায় তারা। আর এই খাবারের খরচ আমি নিজেই বহন করি। ব্যাংকে চাকরি করে যা পাই, তার অর্ধেক এখানে ব্যয় করি। কেউ দিতে চাইলে বলি, খাবার কিনে খাইয়ে যান।'

শুধু তাই নয়, শুরু থেকেই প্রতি ঈদে ওদের কাপড় কিনে দেন রাসেল। রান্না করা খাবার দেন। পহেলা বৈশাখে দেন জামা। রমজান মাসজুড়ে ইফতারের ব্যবস্থা করেন। মৌসুমি ফলও খেতে দেন। দুই বছর ধরে রাসেল জন্মদিন পালন করেন পথশিশুদের সঙ্গে। ওদের সঙ্গে কেক কাটেন; খান এবং খাইয়ে দেন।
নরসিংদীর রায়পুরার মাঝেরচরের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন রাসেল থাকেন ব্রাহ্মণদী শহরে। ৩০ বছর বয়সী এ তরুণ নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে চাকরি করছেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের নরসিংদী শাখায়। তিন পথশিশুদের জন্য একটা স্থায়ী স্কুল করার স্বপ্ন দেখেন। চান একটা লাইব্রেরিও গড়ে তুলতে। তার সে স্বপ্ন নিশ্চয় পূরণ হবে।