নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, যে অসৎ সে সত্য কথা বলতে ভয় পায়। অন্যায় কাজ করলে সাহস থাকে না।

রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভাষা সৈনিক মমতাজ বেগম মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন আইভী।

এদিন বিদ্যালয়ের ১৬ শিক্ষার্থীকে মমতাজ বেগম মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়। প্রয়াত ভাষা সৈনিক মমতাজ বেগমের পরিবারের পক্ষে 'সাফা আনতারা ট্রাস্ট এই বৃত্তির আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, সাহস নিয়ে অকপটে সত্য কথা বলতে হবে। দেশপ্রেম আমাদের ভেতর জাগাতে হবে। প্রীতিলতা, বেগম রোকেয়ার, মমতাজ বেগমের মতো সাহসী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা মাথায় রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নারীদের অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করেছেন। এজন্য তাকে স্যালুট দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে মেয়েরা কথা বলতে পারতো না। রিকশায় চড়লে চারদিক ঢেকে রাখতো, ঘোড়ার গাড়ি ঢেকে রাখা হতো। তখনকার সময়ে একজন নারীর লেখাপড়া করা, প্রতিবাদী হওয়া কিন্তু সহজ ব্যাপার ছিল না। এখনও আমরা প্রতিবাদ করতে ভয় পাই। অথচ সেই সময় এত কঠিন মুহুর্তে নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে মমতাজ বেগমের দেশপ্রেম অনেক প্রখর ছিল।’

ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগম সম্পর্কে আইভী বলেন, আমি যখন মর্গ্যান স্কুলে পড়তাম তখন মমতাজ বেগমের কথা জানতাম না। আমি পৌরসভার চেয়ারম্যান হওয়ার পর নাগরিক কমিটির কাছ থেকে প্রথম তার সম্পর্কে জানতে পারি। অনেকেই হয়তো তার সম্পর্কে জানতো না। কেননা তার ইতিহাস সংরক্ষিত ছিল না। পরে একটি রাস্তার নাম মমতাজ বেগমের নামে নামকরণ করার আলোচনা উঠলে আমি এক বাক্যে রাজি হয়ে যাই। অন্য সকলেও এতে রাজি হন। পরে স্কুলের পাশের রাস্তাটি মমতাজ বেগমের নামে হয়। আমার নিজের মায়ের নামও মমতাজ বেগম।

ভাষা সৈনিক মমতাজ বেগম নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মর্গ্যান গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার পক্ষে মিছিল করায় মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তিনি ২০১২ সালে মরনোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন।

মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগমের জ্যেষ্ঠ নাতনি ডা. ফারজানা ইসলাম রূপা, মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগমের কনিষ্ঠ দৌহিত্র ওয়াসীম ইসলাম বাবু, কনিষ্ঠ নাতনি রিজওয়ানা মনির গোপা ও মর্গ্যান গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক লায়লা আক্তারসহ আরও অনেকে।