চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের ক্রেনের তার ছিঁড়ে ছিটকে পরা ধাতব পাতের চাপায় মুজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি নগরীর সানায়োরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি বাঁশখালীর চানপুরে। ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবার ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সমঝোতা করে ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা রেকর্ড হয়নি।

নগরীর চান্দগাঁও থানার ওসি মাঈনুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নগরীর চান্দগাঁও থানার পাঠানিয়াগোদা হামিদিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভিকটিম মুজিবুর রহমান ফুটপাত দিয়ে হেঁটে বাজারে যাচ্ছিলেন। সে সময় ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত ক্রেন দিয়ে লোহার পাত তোলা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে ক্রেনের তার ছিঁড়ে ওই ধাতব পাত ছিটকে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতে তিনি মারা যান। উভয়পক্ষ সমঝোতা করে ফেলায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়নি। পুলিশও এ ঘটনায় আর কোন মামলা করেনি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আহমদ মঈনুদ্দিন ফোন রিসিভড না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সিডিএ'র সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবারকে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে বসে নিয়ে আসেন সিডিএ কর্মকর্তারা। টাকা পাওয়ার পর তারা আর কোনো মামলা দায়ের করেনি। ঘটনাটি সেখানেই ধামাচাপা দেওয় হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, একই ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীও চাপা পড়েন। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে আহত ওই ব্যক্তি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা কাটাতে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার বড় প্রকল্প হাতে নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এর আওতায় ৩৬টি খালের ৫ লাখ ২৮ হাজার ঘনমিটার মাটি খনন এবং ৪ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার কাদা অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের পাশে নালা তৈরি করা হবে এক হাজার ৭৭ কিলোমিটার। প্রায় ১০৮ একর জমি অধিগ্রহণ এবং এক লাখ ৭৬ হাজার মিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ৮৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করা হবে। এছাড়া ছয়টি পিসি গার্ডার ব্রিজ প্রতিস্থাপন, পাঁচটি টাইডাল রেগুলেটর স্থাপন, ৪২টি সিল ট্র্যাপ স্থাপন, বন্যার পানি সংরক্ষণে তিনটি জলাধার স্থাপন, বিদ্যমান নালার সংস্কার ও মেরামত, দুই হাজার বৈদ্যুতিক পোল স্থানান্তর এবং ৮৮০টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করার কথা বলা রয়েছে প্রকল্পে।