নাচোল পৌরসভার রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশের হাতে মার খেয়েছেন কাউন্সিলরসহ পৌর কর্মচারীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওইদিন বিকেলে মানববন্ধন করা হয়। পরদিন শুক্রবার মেয়র সংবাদ সম্মেলন করেন। একই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে পৌরবাসীর ব্যানারে পৌর মেয়রসহ সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে পাল্টা মানববন্ধন করা হয়।

এ সময় বক্তব্য দেন পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু। এ সময় ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মনিরুল ইসলাম, ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম, লাইসেন্স পরিদর্শক আহসান হাবীব ও পৌর কর্মচারী মজিবুর রহমান আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। সমস্যার সমাধান না হলে রোববারের পর কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন পৌর মেয়র।

পৌর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নাচোল পীপড়াডাঙ্গা মহল্লায় রুহুল আমিন রাস্তার পাশে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দোকান সরিয়ে নিতে তিনবার নোটিশ দেওয়া হয়। এর পরও স্থাপনা না সরালে তাকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। এদিকে পুলিশকে উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করতে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরও উচ্ছেদ অভিযানে গেলে পৌর কর্মচারীর ওপর হামলা করেন রুহুল আমিন ও তার পরিবার। এ সময় ওসি মিন্টু রহমানসহ অনেকেই উপস্থিত হয়ে পৌর কর্মচারীদের ওপর লাঠিচার্জ করলে পাঁচজন আহত হন।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে পৌরসভার সাধারণ জনগণের ব্যানারে গরিবের ঘর ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে নাচোলের পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামের বিচারের দাবিতে পাল্টা মানববন্ধন করা হয়। নাচোল বাসস্ট্যান্ড মোড়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে অভিযুক্তদের পৌরসভা থেকে অপসারণ ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

এ ব্যাপারে রুহুল আমিন বলেন, সরকারি রাস্তার জায়গা ৬ ফুট। সেখানে আমরা ১১ ফুট জায়গা ছেড়েছি। এ ছাড়া আমার বাড়ি ও দোকান ঘেঁষে আরও স্থাপনা রয়েছে। সেগুলো উচ্ছেদ না করে আক্রোশ থেকে কাউন্সিলর শফিকুল পৌরসভাকে ব্যবহার করে আমার দোকানটি উচ্ছেদ করে বৈদ্যুতিক খুঁটি গাঁথতে চাইছেন।

অন্যদিকে নাচোল থানার ওসি মিন্টু রহমান জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিলেও সময় উল্লেখ করেনি। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কাউকে লাঠিচার্জ করা হয়নি।